ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইনানী থেকে নয়, কক্সবাজার শহরের ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিন যাবে জাহাজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকেই ছাড়বে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বিচ থেকে জাহাজ চলাচলের একটি প্রস্তাব আসলেও, আইনগত বিধিনিষেধ থাকায় সেখান থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নীতিগত সম্মতির চিঠি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে পাঠিয়েছে, যেখানে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই ইসিএ এলাকার মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার আওতাধীন সমুদ্র সৈকত, বালুচর, খাড়ি, বনভূমি ও জলাভূমিসহ ইনানী মৌজা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৫(৪) ধারা মতে, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষিত কোনো এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ‘কর্ম বা প্রক্রিয়া’ চালু রাখা বা নতুন করে শুরু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন এই চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক, আগের নিয়ম অনুসারেই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে পর্যটকবাহী জাহাজ ছেড়ে যাবে।’

এখানে উল্লেখ্য যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১২-দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে, বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকার নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবে না। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটের সাথে একটি ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। যদি কোনো টিকিটে কিউআর কোড না পাওয়া যায়, তবে সেই টিকিট নকল বা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন না। এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং মোট পর্যটকের উপস্থিতির বিষয়টিও অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আসছে নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন, দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।

সেন্টমার্টিনের অমূল্য প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে, দ্বীপে রাতের বেলা সৈকতে যেকোনো ধরনের আলো জ্বালানো, উচ্চস্বরে শব্দ সৃষ্টি করা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ করা; কেওড়া ফল সংগ্রহ বা তা কেনা-বেচা করা; এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজ কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের কোনো প্রকার ক্ষতি করা যাবে না। এর পাশাপাশি, সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যানবাহন চলাচলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বহন করা যাবে না। সেই সাথে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনি প্যাকেট, ৫০০ মিলিলিটার বা এক লিটারের প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি বহন করার বিষয়েও পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর বদলে, পর্যটকদের ভ্রমণের সময় নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

ইনানী থেকে নয়, কক্সবাজার শহরের ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিন যাবে জাহাজ

আপডেট সময় : ১২:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকেই ছাড়বে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বিচ থেকে জাহাজ চলাচলের একটি প্রস্তাব আসলেও, আইনগত বিধিনিষেধ থাকায় সেখান থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নীতিগত সম্মতির চিঠি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে পাঠিয়েছে, যেখানে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই ইসিএ এলাকার মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার আওতাধীন সমুদ্র সৈকত, বালুচর, খাড়ি, বনভূমি ও জলাভূমিসহ ইনানী মৌজা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৫(৪) ধারা মতে, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষিত কোনো এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ‘কর্ম বা প্রক্রিয়া’ চালু রাখা বা নতুন করে শুরু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন এই চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক, আগের নিয়ম অনুসারেই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে পর্যটকবাহী জাহাজ ছেড়ে যাবে।’

এখানে উল্লেখ্য যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১২-দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে, বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকার নৌযান সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবে না। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটের সাথে একটি ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। যদি কোনো টিকিটে কিউআর কোড না পাওয়া যায়, তবে সেই টিকিট নকল বা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন না। এবার দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং মোট পর্যটকের উপস্থিতির বিষয়টিও অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আসছে নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন, দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।

সেন্টমার্টিনের অমূল্য প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে, দ্বীপে রাতের বেলা সৈকতে যেকোনো ধরনের আলো জ্বালানো, উচ্চস্বরে শব্দ সৃষ্টি করা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ করা; কেওড়া ফল সংগ্রহ বা তা কেনা-বেচা করা; এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজ কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের কোনো প্রকার ক্ষতি করা যাবে না। এর পাশাপাশি, সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যানবাহন চলাচলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন বহন করা যাবে না। সেই সাথে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক—যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনি প্যাকেট, ৫০০ মিলিলিটার বা এক লিটারের প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি বহন করার বিষয়েও পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর বদলে, পর্যটকদের ভ্রমণের সময় নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।