নারীর শরীরের একটি অতি স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া হলো মাসিক চক্র। প্রতি মাসে এই চক্রের মাধ্যমেই মূলত নতুন একটি জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে মাসিক, ওভুলেশন বা ডিম্বস্ফোটন এবং গর্ভধারণের এই সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও পরিকল্পিত জীবনের জন্য নিজের শরীরের এই ছন্দটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, একটি স্বাভাবিক মাসিক চক্র সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। এই সময়ের মধ্যে শরীরের হরমোনে নানা পরিবর্তন আসে এবং জরায়ু গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুতি নেয়। সাধারণত পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার ১৪ দিন আগে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হয়, যাকে ওভুলেশন বলা হয়। এই ওভুলেশনের আগের কয়েক দিন এবং ওভুলেশনের দিনটিই হলো গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বা ‘ফারটাইল উইন্ডো’।
গর্ভধারণের পরিকল্পনা সফল করতে সময়ের হিসাব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ডিম্বাণু সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে, অন্যদিকে পুরুষ শুক্রাণু নারীর শরীরে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। তাই ওভুলেশন পিরিয়ড সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে যেমন সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা সহজ হয়, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এড়ানোও সম্ভব হয়। তবে মানসিক চাপ বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই চক্রে কিছুটা হেরফের হতে পারে, যা স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























