মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শুক্রবার প্রকাশিত এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া আট লক্ষাধিক বাংলাদেশি শ্রমিক এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শোষণের শিকার হয়েছেন। নিয়োগ ফি হিসেবে অন্য দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিতে গিয়ে এসব শ্রমিকরা ভয়াবহ ঋণের জালে আটকা পড়েছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী মহল ও বাংলাদেশের একশ্রেণির অসাধু রিক্রুটিং এজেন্টের যোগসাজশে এই শ্রমবাজার এখন ‘আধুনিক দাসত্বের’ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, একজন বাংলাদেশি শ্রমিককে মালয়েশিয়া যেতে ৬ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে, যা নেপাল বা ইন্দোনেশিয়ার শ্রমিকদের ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই বিশাল অর্থের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে ডিজিটাল রিক্রুটমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বেস্টিনেট’ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। যদিও বেস্টিনেটের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে নথিপত্র বলছে গত ১০ বছরে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার পাম অয়েল, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের চাকা সচল রাখতে অভিবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও বাংলাদেশিরাই সেখানে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই দুর্নীতির শিকড় এতটাই গভীরে যে, বাংলাদেশে অর্থপাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক এলিটদের একটি অংশ এই উচ্চ নিয়োগ ফি থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় তারা বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে। শ্রম অধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে এই লাভজনক অভিবাসন বাণিজ্য এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























