দেশের অন্যতম শীতল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শুক্রবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যার প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ, যার ফলে রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতে লোক সমাগম কমে এসেছে।
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনতিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকার শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে অতীতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়াও, ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি, ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি এবং ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
শীতের এই তীব্রতা থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রিপোর্টারের নাম 























