ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি: জনদুর্ভোগের কারণ, ইসলামে কঠোর বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে বর্তমানে জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে গ্যাসের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম অভাব তৈরি করে সিলিন্ডার ও কলকারখানার গ্যাসের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ। এমন মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকে ইসলামে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং উত্তম পন্থায় তা পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসার ক্ষতিকর ও নেতিবাচক দিকগুলো থেকে সতর্ক করে সেগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপ ইসলাম সমর্থন করে না।

মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুতদার বা গুদামজাতকারী অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ) অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পণ্য গুদামজাত করবে, সে বড় অপরাধী ও গুনাহগার।’ (মুসলিম) হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ বা দারিদ্র্যে আক্রান্ত করবেন।’ (ইবনে মাজাহ)

এমনকি মজুত করা পণ্য পরবর্তীতে দান করা হলেও সেই গুনাহ থেকে মুক্তি মেলে না। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি চল্লিশ দিন খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখার পর তা সদকা করে দেয়, তবে এই সদকা তার গুনাহের কাফফারা হবে না।’ (রাজিন)

ইসলামী চিন্তাবিদগণ মজুতদারির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম নববি (রহ.)-সহ অন্যান্য আলেমদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে গুদামজাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে— বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুত করা; পণ্যের দাম বাড়লে আনন্দিত হওয়া এবং কমলে চিন্তিত হওয়া; এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করা। বিশেষ করে কোনো অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য মজুত করাকে মারাত্মক গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিশেষে, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান, হালাল ও সততার পথে ব্যবসা পরিচালনা করুন। দুনিয়ার সামান্য লাভের মোহে পড়ে পরকালকে যেন বরবাদ না করি। ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মানুষের দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাতেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নতুন নিয়ম: বুধবার থেকে কার্যকর হচ্ছে ডিজিটাল অনুমতি ‘ইটিএ’

কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি: জনদুর্ভোগের কারণ, ইসলামে কঠোর বার্তা

আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে বর্তমানে জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে গ্যাসের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম অভাব তৈরি করে সিলিন্ডার ও কলকারখানার গ্যাসের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ। এমন মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকে ইসলামে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং উত্তম পন্থায় তা পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসার ক্ষতিকর ও নেতিবাচক দিকগুলো থেকে সতর্ক করে সেগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপ ইসলাম সমর্থন করে না।

মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুতদার বা গুদামজাতকারী অভিশপ্ত।’ (ইবনে মাজাহ) অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি পণ্য গুদামজাত করবে, সে বড় অপরাধী ও গুনাহগার।’ (মুসলিম) হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ বা দারিদ্র্যে আক্রান্ত করবেন।’ (ইবনে মাজাহ)

এমনকি মজুত করা পণ্য পরবর্তীতে দান করা হলেও সেই গুনাহ থেকে মুক্তি মেলে না। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি চল্লিশ দিন খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখার পর তা সদকা করে দেয়, তবে এই সদকা তার গুনাহের কাফফারা হবে না।’ (রাজিন)

ইসলামী চিন্তাবিদগণ মজুতদারির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম নববি (রহ.)-সহ অন্যান্য আলেমদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে গুদামজাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে— বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুত করা; পণ্যের দাম বাড়লে আনন্দিত হওয়া এবং কমলে চিন্তিত হওয়া; এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করা। বিশেষ করে কোনো অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য মজুত করাকে মারাত্মক গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিশেষে, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান, হালাল ও সততার পথে ব্যবসা পরিচালনা করুন। দুনিয়ার সামান্য লাভের মোহে পড়ে পরকালকে যেন বরবাদ না করি। ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মানুষের দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাতেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত।