বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কোনো বিদেশি শক্তির নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি দল ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গত ১৫ বছরে উন্নয়নের নামে দেশের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এর সপক্ষে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে যে সময় লাগে, লন্ডনে পৌঁছাতে তার চেয়ে কম সময় লাগে, যা দেশের উন্নয়ন খাতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।
দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়েও তিনি তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে তিনি কাজ করতে চান। এই লক্ষ্যে দেশের ভেতরে বা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু রাজনৈতিক দলের ভোট প্রার্থনার পদ্ধতি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু নেতা বেহেশতের টিকিট বিক্রির মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করার চেষ্টা করছেন। তাদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই তারা ভোটারদের সাথে প্রতারণা করছে, এবং নির্বাচনের পর তাদের আসল রূপ বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ‘৭১ সালে যারা দেশের বিরোধিতা করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড এখনো মানুষ মনে রেখেছে।
সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বেলা পৌনে ১১টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জনসভাস্থল নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নেতাকর্মীদের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠের বাইরেও রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেন, যা দলটির জনগুরুত্ব প্রমাণ করে।
রিপোর্টারের নাম 





















