ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র অসন্তোষ, নেতানিয়াহুর ওপর দোষারোপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে এবং তাদের ক্ষোভের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান চেয়েছিল চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, কিন্তু তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তা হয়নি।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন আমি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আছি, এটি হতে দেওয়া হবে না।’ তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক কর্মকর্তারা এই প্রাথমিক চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন শরতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলের বিচ্ছিন্নতা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরো জটিল করে তুলবে।

এছাড়াও ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যদিও ইসরাইল এই চুক্তির পক্ষ নয়, তবুও দেশটি এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনের যেকোনো চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সোমবার, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেবাননে সেনা রাখার অঙ্গীকার করেন।

সমালোচকরা বলেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ থেকে যা অর্জন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে জড়ান। তারা বলেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বুঝতে ভুল করেছেন। এর ফলে আলোচনায় ইরানের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইসরাইল এবং পরবর্তীতে অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর কাছেও ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েন নেতানিয়াহু।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: আট ক্রুর মৃত্যু

ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে তীব্র অসন্তোষ, নেতানিয়াহুর ওপর দোষারোপ

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে এবং তাদের ক্ষোভের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান চেয়েছিল চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, কিন্তু তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তা হয়নি।

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যতদিন আমি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আছি, এটি হতে দেওয়া হবে না।’ তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক কর্মকর্তারা এই প্রাথমিক চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন শরতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলের বিচ্ছিন্নতা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে আরো জটিল করে তুলবে।

এছাড়াও ইরান চুক্তি লেবাননে ইসরাইলের অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যদিও ইসরাইল এই চুক্তির পক্ষ নয়, তবুও দেশটি এক ধরনের উভয়সংকটে পড়েছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনের যেকোনো চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সোমবার, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেবাননে সেনা রাখার অঙ্গীকার করেন।

সমালোচকরা বলেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ থেকে যা অর্জন করা সম্ভব, তার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে জড়ান। তারা বলেন, নেতানিয়াহু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বুঝতে ভুল করেছেন। এর ফলে আলোচনায় ইরানের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইসরাইল এবং পরবর্তীতে অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান শক্তিগুলোর কাছেও ক্রমশ উপেক্ষিত হয়ে পড়েন নেতানিয়াহু।