ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জনগণ তাদের ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দলটি দেশে বাক্‌স্বাধীনতা রক্ষা, সংবাদপত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং সংবাদকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার স্মরণ করেন যে, ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৬ জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র—দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার—সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বাতিল করা হয়। এটি ছিল সংবাদপত্র ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের একটি কালো অধ্যায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। সেই সময় হাজার হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েছিলেন এবং তাদের পরিবার-পরিজন চরম অনাহার ও অমানবিক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারও গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, সিএসবি টিভি, ইসলামিক টিভির সম্প্রচার এবং বহু অনলাইন নিউজ পোর্টাল অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে আবারও হাজার হাজার সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে নিবর্তনমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপের মুখে সরকার ২০২৩ সালে লোক দেখানো পরিবর্তন এনে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ নামে আরেকটি কালাকানুন প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে বহু সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তার মানুষকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে আটক রেখে হয়রানি করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই কালো আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল করেছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি টিভি ও ইসলামিক টিভি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ একসাথে চলেনি: মির্জা ফখরুল

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় জামায়াতের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০১:১৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গত ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জনগণ তাদের ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দলটি দেশে বাক্‌স্বাধীনতা রক্ষা, সংবাদপত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং সংবাদকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার স্মরণ করেন যে, ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৬ জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র—দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার—সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বাতিল করা হয়। এটি ছিল সংবাদপত্র ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের একটি কালো অধ্যায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। সেই সময় হাজার হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েছিলেন এবং তাদের পরিবার-পরিজন চরম অনাহার ও অমানবিক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারও গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, সিএসবি টিভি, ইসলামিক টিভির সম্প্রচার এবং বহু অনলাইন নিউজ পোর্টাল অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে আবারও হাজার হাজার সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে নিবর্তনমূলক ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপের মুখে সরকার ২০২৩ সালে লোক দেখানো পরিবর্তন এনে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ নামে আরেকটি কালাকানুন প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে বহু সাংবাদিক ও মুক্তচিন্তার মানুষকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে আটক রেখে হয়রানি করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই কালো আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল করেছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি টিভি ও ইসলামিক টিভি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।