জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাধারণত নিরাপদ জয়ের খোঁজে ঢাকার বাইরে নিজ এলাকা থেকে লড়তে দেখা যায়। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই প্রথা ভেঙে ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে চারজন হেভিওয়েট দলীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রার্থী হয়েছেন। এই শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং দলীয় শক্তিমত্তা পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে ওঠায় এই আসনগুলো এখন সারা দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ভাসানটেক) আসনে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমানকে এ আসনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে ডা. শফিকুর রহমান নিজের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে লড়ছেন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনেই ডা. শফিকুর ধানের শীষ নিয়ে লড়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার নিজ প্রতীকে তাঁর লড়াই জামায়াতের জনপ্রিয়তার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর অন্য দুটি আসনেই জোটের সমীকরণ বেশ জটিল। ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম জামায়াতের পূর্ণ সমর্থনে মাঠে নেমেছেন। শুরুতে এখানে জামায়াত নেতা আতিকুর রহমান প্রচার চালালেও জোটের স্বার্থে তিনি নাহিদ ইসলামকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ড. এম এ কাইয়ুম। অন্যদিকে, ঢাকা-১৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা মামুনুল হক লড়ছেন, যাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তবে এখানে তাঁকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকার আসনে দলীয় প্রধানদের লড়াই সবসময়ই একটি ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’। ১৯৯১ সালে শেখ হাসিনার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর ঢাকার দুটি আসনেই পরাজয়ের রেকর্ড থাকায় দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ কাজ করছে। ভোটারদের আঞ্চলিক সমীকরণ ছাপিয়ে এবার আদর্শিক ও জাতীয় ইস্যুগুলো জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে এই হেভিওয়েটদের লড়াই শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয়ের মালা পরায়, তা দেখার জন্য এখন অধীর অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।
রিপোর্টারের নাম 
























