আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই প্রতীকে লড়া প্রার্থীদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ২৮৭টি আসনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর মধ্যে ২২৯ জনই স্নাতক বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে ৮ জনের। শিক্ষাগত যোগ্যতায় ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. রেজা কিবরিয়ার মতো প্রবীণ ও বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি রয়েছেন তরুণ নেতা রাশেদ খাঁনও। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ১১ জন নিজেদের ‘স্বশিক্ষিত’ বা কেবল ‘সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
বয়সের দিক থেকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য বেশি। মোট প্রার্থীর অর্ধেকেরও বেশির বয়স ৬০ বছরের উপরে। দলের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রার্থী সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের ৮৬ বছর বয়সী আকবর আলী। বিপরীতে, কনিষ্ঠতম প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে লড়ছেন ৩১ বছর বয়সী রাশেদ খাঁন। এছাড়া দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে নজর কেড়েছেন শেরপুর-১ আসনের চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (৩২)। উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (৫৭) এবার ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আর্থিক সামর্থ্যের দিক থেকে ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে ‘কোটিপতি’র ছড়াছড়ি। ২১৫ জন প্রার্থীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ কোটি টাকার উপরে, যার মধ্যে ৭ জন ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক। সম্পদের দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যাঁর ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮১ কোটি টাকা। অন্যদিকে বার্ষিক আয়ের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের জাকারিয়া তাহের, যাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বিপরীতে সবচেয়ে কম বার্ষিক আয় (মাত্র ৩২ হাজার ৮২২ টাকা) দেখিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. শাজাহান। পেশার বিচারে প্রার্থীদের ৭১ শতাংশই ব্যবসায়ী হলেও হলফনামায় কেবল ৫ জন নিজেদের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























