ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শরিকদের আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা: বহিষ্কার ও সমঝোতার চেষ্টাতেও কাটছে না অস্বস্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার মাধ্যমে শরিক দলগুলোকে ১৭টি আসন ছেড়ে দিলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা জোটের ঐক্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলটির কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কারের পরেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনে সাবেক বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন। এর ফলে ধানের শীষের মিত্র প্রার্থীরা যেমন চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন, তেমনি অনেক আসনে ভোটের সমীকরণও ওলটপালট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বিএনপির শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৯টি আসনে প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীকে লড়ছেন এবং বাকি ৮টি আসনে অন্য দল থেকে আসা প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরিকদের নিজস্ব প্রতীকে লড়া ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই বিএনপির হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যেমন, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে লড়ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার বিপক্ষে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন বিএনপির মীর শাহে আলম। একইভাবে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন হাসান মামুন।

শরিক দলের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে উল্লেখ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিএনপি তাঁকে ‘ইগনোর’ করে নিজস্ব প্রার্থী বহাল রেখেছে, যা জোটের রাজনীতির জন্য হতাশাজনক। অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এখনো আশা করছে যে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেবে। তবে বিদ্রোহীরা অনড়; যশোর-৫ আসনের শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল বা পটুয়াখালীর হাসান মামুনের দাবি—তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আবেগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক খরা কাটাতে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কারের খড়গ চালালেও মাঠ পর্যায়ের এই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জোটের বড় শরিকদের আসনে এই বিভক্তি ভোটের ফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও শরিক দলগুলো এই ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা নিয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার পদধ্বনি: আইএমএফের সতর্কবার্তা

শরিকদের আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা: বহিষ্কার ও সমঝোতার চেষ্টাতেও কাটছে না অস্বস্তি

আপডেট সময় : ১১:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার মাধ্যমে শরিক দলগুলোকে ১৭টি আসন ছেড়ে দিলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা জোটের ঐক্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলটির কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কারের পরেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনে সাবেক বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন। এর ফলে ধানের শীষের মিত্র প্রার্থীরা যেমন চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন, তেমনি অনেক আসনে ভোটের সমীকরণও ওলটপালট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বিএনপির শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৯টি আসনে প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীকে লড়ছেন এবং বাকি ৮টি আসনে অন্য দল থেকে আসা প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শরিকদের নিজস্ব প্রতীকে লড়া ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই বিএনপির হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যেমন, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপরীতে লড়ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার বিপক্ষে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন বিএনপির মীর শাহে আলম। একইভাবে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন হাসান মামুন।

শরিক দলের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে উল্লেখ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিএনপি তাঁকে ‘ইগনোর’ করে নিজস্ব প্রার্থী বহাল রেখেছে, যা জোটের রাজনীতির জন্য হতাশাজনক। অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এখনো আশা করছে যে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে এই বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেবে। তবে বিদ্রোহীরা অনড়; যশোর-৫ আসনের শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল বা পটুয়াখালীর হাসান মামুনের দাবি—তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আবেগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক খরা কাটাতে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কারের খড়গ চালালেও মাঠ পর্যায়ের এই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জোটের বড় শরিকদের আসনে এই বিভক্তি ভোটের ফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও শরিক দলগুলো এই ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা নিয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।