ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

হাওর থেকে পাহাড়, প্রতি আসনেই হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## নেত্রকোনার পাঁচ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতি

নেত্রকোনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চিরাচরিত আধিপত্যের বিপরীতে এবার একাধিক আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে অনুপস্থিতি বা কৌশলগত কারণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল আকার ধারণ করেছে, যা নির্বাচনী উত্তাপ বাড়াচ্ছে।

নির্বাচনী আসনগুলোতে মোট ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নারী প্রার্থীরাও ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে অথবা বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এসব আসনের প্রত্যেকটিতে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি সংগঠিতভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও কয়েকটি আসনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার জন্য তৎপর। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদের মতো নতুন ও বিকল্প রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা): গারো পাহাড়ি অঞ্চলের এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দীর্ঘকাল ধরে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, গোলাম রব্বানীও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সুবাদে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মান্নান সোহাগ, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বেলাল হোসেন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীরও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেত্রকোনা-২ (সদর–বারহাট্টা): জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে বিএনপির জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। পূর্বে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক থাকলেও, জোটবদ্ধ নির্বাচনের হিসাব-নিকেশে তিনি এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব গাজী আব্দুর রহিম এবং খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইয়ূম। এছাড়াও, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা গাজী আব্দুর রহিম রুহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কাইয়ূম এবং জাতীয় পার্টির এবিএম রফিকুল হক তালুকদারও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া): এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তবে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জেলার সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীও এই আসনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির ভোটব্যাংকের বিভাজন তার নির্বাচনী ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা এবং জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার।

নেত্রকোনা-৪ (মদন–মোহনগঞ্জ–খালিয়াজুরী): হাওরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন। যদিও তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার। এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেছুর রহমান, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেত্রী জলি তালুকদার এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির চম্পা রাণী সরকারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা): একক উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার। জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলের প্রার্থী অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও, আপিলের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ভোটারদের মতে, এখানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলামও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, নেত্রকোনায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১৭৩ জন, নারী ৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩৭ জন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের কারাবন্দি জীবনের দুই দশক: এক কঠিন যাত্রার স্মরণ

হাওর থেকে পাহাড়, প্রতি আসনেই হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

## নেত্রকোনার পাঁচ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস, উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতি

নেত্রকোনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চিরাচরিত আধিপত্যের বিপরীতে এবার একাধিক আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে অনুপস্থিতি বা কৌশলগত কারণে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল আকার ধারণ করেছে, যা নির্বাচনী উত্তাপ বাড়াচ্ছে।

নির্বাচনী আসনগুলোতে মোট ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নারী প্রার্থীরাও ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে অথবা বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

এসব আসনের প্রত্যেকটিতে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি সংগঠিতভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও কয়েকটি আসনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার জন্য তৎপর। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদের মতো নতুন ও বিকল্প রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা): গারো পাহাড়ি অঞ্চলের এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দীর্ঘকাল ধরে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, গোলাম রব্বানীও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সুবাদে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মান্নান সোহাগ, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বেলাল হোসেন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীরও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেত্রকোনা-২ (সদর–বারহাট্টা): জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে বিএনপির জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। পূর্বে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা এনামূল হক থাকলেও, জোটবদ্ধ নির্বাচনের হিসাব-নিকেশে তিনি এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব গাজী আব্দুর রহিম এবং খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইয়ূম। এছাড়াও, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা গাজী আব্দুর রহিম রুহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কাইয়ূম এবং জাতীয় পার্টির এবিএম রফিকুল হক তালুকদারও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া): এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। তবে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জেলার সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীও এই আসনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির ভোটব্যাংকের বিভাজন তার নির্বাচনী ফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা এবং জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার।

নেত্রকোনা-৪ (মদন–মোহনগঞ্জ–খালিয়াজুরী): হাওরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন। যদিও তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীও এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার। এছাড়াও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেছুর রহমান, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেত্রী জলি তালুকদার এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির চম্পা রাণী সরকারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা): একক উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার। জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলের প্রার্থী অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও, আপিলের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ভোটারদের মতে, এখানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলামও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, নেত্রকোনায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১৭৩ জন, নারী ৯ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩৭ জন।