আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে তিনটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন স্থানীয় তিন প্রভাবশালী নেতা। এতে দলীয় ভোট ব্যাংক দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রার্থীদের।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত ধাপ।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তবে তার বিপরীতে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস এম এ মতিন খাঁন। তিনি ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই আসনটি নিয়ে চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলায় হওয়ায় এম এ মতিন তাকে ‘ভাড়াটে প্রার্থী’ হিসেবে অভিহিত করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগ নিতে মুখিয়ে আছেন জামায়াত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা। প্রতীক পাওয়ার পর এম এ মতিন বলেন, “হোমনা ও তিতাসের মানুষের সম্মান রক্ষায় তারা আমাকেই বেছে নেবে। বহিরাগত কাউকে এখানকার ভোটাররা মেনে নিতে পারছে না।”
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এখানে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ। কিন্তু তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন, যিনি ‘কলস’ প্রতীক পেয়েছেন। শাওনের সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আসনে জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের সোলেমান খানও বেশ সক্রিয় রয়েছেন।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা। ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর সামিরা আজিম বলেন, “মানুষ ধানের শীষের প্রার্থীর চেয়ে ব্যক্তি আনোয়ারুল আজিমের কন্যাকেই বেশি পছন্দ করে। ভোটাররা ১২ তারিখের অপেক্ষায় আছেন আমাকে জয়ী করার জন্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লার এই তিন আসনে বিএনপির শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে মূল প্রার্থীর জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারেন। শেষ পর্যন্ত এই ত্রিভুজমুখী লড়াইয়ের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
রিপোর্টারের নাম 





















