ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ভোটের সমীকরণে নতুন অস্বস্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশের অন্তত ৫০টি সংসদীয় আসনে দলের প্রভাবশালী ও ত্যাগী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এসব বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দলীয় ঐক্য ও ভোটের সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা অনেক ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় এই নেতাদের কারণে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলের ভোট ব্যাংক বিভক্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অর্ধেকের বেশি আসনে তা ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে অনেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল ইসলাম নিরব এবং ঢাকা-১৪ আসনে এসএ সিদ্দিক সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। টাঙ্গাইলের চারটি আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদসহ হেভিওয়েট নেতারা মাঠে অনড়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং নোয়াখালীতে প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের মতো পরিচিত মুখগুলো দলীয় প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং পাবনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া বিএনপির জন্য এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের প্রার্থীদের চেয়েও দলীয় প্রাথীদের জন্য বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যদিও বিএনপি হাই কমান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তাদের জন্য দলে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তবুও শেষ পর্যন্ত মাঠের এই বিদ্রোহী নেতারা ভোটের লড়াইয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলেন এবং এটি ধানের শীষের চূড়ান্ত ফলাফলে কী বার্তা বয়ে আনে তা নিয়ে সারা দেশে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ভোটের সমীকরণে নতুন অস্বস্তি

আপডেট সময় : ০১:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশের অন্তত ৫০টি সংসদীয় আসনে দলের প্রভাবশালী ও ত্যাগী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও এসব বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দলীয় ঐক্য ও ভোটের সমীকরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা অনেক ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় এই নেতাদের কারণে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলের ভোট ব্যাংক বিভক্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অর্ধেকের বেশি আসনে তা ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে অনেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল ইসলাম নিরব এবং ঢাকা-১৪ আসনে এসএ সিদ্দিক সাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। টাঙ্গাইলের চারটি আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদসহ হেভিওয়েট নেতারা মাঠে অনড়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং নোয়াখালীতে প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের মতো পরিচিত মুখগুলো দলীয় প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং পাবনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতেও সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া বিএনপির জন্য এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের প্রার্থীদের চেয়েও দলীয় প্রাথীদের জন্য বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যদিও বিএনপি হাই কমান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তাদের জন্য দলে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তবুও শেষ পর্যন্ত মাঠের এই বিদ্রোহী নেতারা ভোটের লড়াইয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলেন এবং এটি ধানের শীষের চূড়ান্ত ফলাফলে কী বার্তা বয়ে আনে তা নিয়ে সারা দেশে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।