ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুমের বিভীষিকা বর্ণনা করলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী, শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গুম থাকা অবস্থায় দীর্ঘ বন্দিজীবনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের একটি মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি জানান, নির্জন প্রকোষ্ঠে দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝার কোনো উপায় ছিল না। কেবল সকালের নাস্তায় রুটি এলে তিনি বুঝতে পারতেন নতুন একটি দিন শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট গুম হওয়ার পর প্রথম দুই মাস দেয়ালে পেরেক দিয়ে দাগ কেটে দিনের হিসাব রাখলেও পরে তিনি মানসিক যন্ত্রণায় তা বন্ধ করে দেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দিশালার দেয়ালে আগের বন্দিদের আর্তনাদ মেশানো নানা লেখা এবং বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা ছিল। এমনকি একদিন বিরিয়ানি খেতে দেওয়ায় তিনি অনুমান করেছিলেন যে সেদিন ঈদের দিন ছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল হুম্মামের জবানবন্দি গ্রহণ করে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে এক শিশুসহ ১০ জনকে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজিএফআই-এর আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে বেশিরভাগ আসামিই সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে গুম করাকে একটি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল এবং এর জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মামলায় ডিজিএফআই-এর সাবেক তিন পরিচালক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। জাতিসত্তা রক্ষায় এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে প্রসিকিউশন পক্ষ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

গুমের বিভীষিকা বর্ণনা করলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী, শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ১২:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গুম থাকা অবস্থায় দীর্ঘ বন্দিজীবনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের একটি মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি জানান, নির্জন প্রকোষ্ঠে দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝার কোনো উপায় ছিল না। কেবল সকালের নাস্তায় রুটি এলে তিনি বুঝতে পারতেন নতুন একটি দিন শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট গুম হওয়ার পর প্রথম দুই মাস দেয়ালে পেরেক দিয়ে দাগ কেটে দিনের হিসাব রাখলেও পরে তিনি মানসিক যন্ত্রণায় তা বন্ধ করে দেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দিশালার দেয়ালে আগের বন্দিদের আর্তনাদ মেশানো নানা লেখা এবং বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা ছিল। এমনকি একদিন বিরিয়ানি খেতে দেওয়ায় তিনি অনুমান করেছিলেন যে সেদিন ঈদের দিন ছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল হুম্মামের জবানবন্দি গ্রহণ করে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে এক শিশুসহ ১০ জনকে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজিএফআই-এর আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে বেশিরভাগ আসামিই সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে গুম করাকে একটি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল এবং এর জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মামলায় ডিজিএফআই-এর সাবেক তিন পরিচালক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং বাকি ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। জাতিসত্তা রক্ষায় এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে প্রসিকিউশন পক্ষ।