২০২৫ সালে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো জনজীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করা অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ছিনতাইয়ের মামলা ৩৭ শতাংশ, ডাকাতি ৪৩ শতাংশ এবং অপহরণের মামলা ৭১ শতাংশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই চার ধরনের অপরাধে মোট ১৩ হাজার ৪১০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা বিগত বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, মামলা বৃদ্ধির এই হার সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ারই প্রতিফলন, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করছে। বাস টার্মিনাল বা ভোরের রাস্তায় চলাচলে নাগরিকরা এখন প্রতিনিয়ত ছিনতাই ও দস্যুতার কবলে পড়ার শঙ্কায় থাকছেন।
অপরাধের ভয়াবহ প্রভাবের একটি বাস্তব উদাহরণ বেসরকারি চাকরিজীবী কাজী মোহাম্মদ আ. হাদীদ। গত বছরের জানুয়ারিতে বনানীতে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে তিনি কেবল সর্বস্বই হারাননি, বরং গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকায় শেষ পর্যন্ত তার চাকরিটিও হারাতে হয়েছে। পুলিশের দাবি, মামলা করা এখন আগের চেয়ে সহজ হওয়ায় পরিসংখ্যানের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। তবে পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে মোট মামলার সংখ্যা ৯ হাজার ৭৩২টি বেড়েছে। অন্যদিকে, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল ও সক্রিয়তা পুরোপুরি ফিরে না আসায় অপরাধীরা বাড়তি সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে অভ্যাসগত অপরাধীরা বর্তমানে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকার বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। খুনের মামলার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় ৩৫৪টি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৭৮৬টিতে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে হওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো বিশেষভাবে আলোচিত। এছাড়া ‘মব সন্ত্রাস’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে অন্তত ১৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়াকে সামগ্রিক নিরাপত্তার নাজুক চিত্র হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























