ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে ২৩৮ ‘শুটার’ চিহ্নিত: নির্বাচনের আগে কঠোর নজরদারিতে সীমান্ত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের অন্তত ২৩৮ জন দুর্ধর্ষ শুটারকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিগত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটা গোলাগুলির ঘটনা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিহ্নিত এই শুটারদের বড় একটি অংশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তারে কাজ করছে। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার সময় এরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, নজরদারিতে থাকা এই শুটারদের অধিকাংশেরই অবস্থান সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা, শরীয়তপুর এবং সিলেটের জকিগঞ্জে। পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিহ্নিত শুটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে নাশকতায় জড়িত ছিল, তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য অবনতি রোধে এই বিশেষ অপারেশন জোরদার করা হয়েছে।

বিগত এক বছরের অপরাধচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খুলনা অঞ্চল ছিল সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের জনপদ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে খুলনায় গত বছরে ৮৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে জোড়া খুনের ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের ওপর হামলা, পটিয়ায় গাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুকতাকে স্পষ্ট করেছে। অধিকাংশ খুনের নেপথ্যে মাদক ব্যবসা এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দ্বন্দ্বকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক খুনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, শুটারদের এই তৎপরতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম ও অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং নির্বাচনের সময় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান মিশন দীর্ঘমেয়াদী হবে: মোসাদ প্রধানের হুঁশিয়ারি

সারাদেশে ২৩৮ ‘শুটার’ চিহ্নিত: নির্বাচনের আগে কঠোর নজরদারিতে সীমান্ত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের অন্তত ২৩৮ জন দুর্ধর্ষ শুটারকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিগত এক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটা গোলাগুলির ঘটনা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিহ্নিত এই শুটারদের বড় একটি অংশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী আধিপত্য বিস্তারে কাজ করছে। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার সময় এরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, নজরদারিতে থাকা এই শুটারদের অধিকাংশেরই অবস্থান সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খুলনা, শরীয়তপুর এবং সিলেটের জকিগঞ্জে। পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিহ্নিত শুটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে নাশকতায় জড়িত ছিল, তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য অবনতি রোধে এই বিশেষ অপারেশন জোরদার করা হয়েছে।

বিগত এক বছরের অপরাধচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খুলনা অঞ্চল ছিল সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের জনপদ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে খুলনায় গত বছরে ৮৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে জোড়া খুনের ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের ওপর হামলা, পটিয়ায় গাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুকতাকে স্পষ্ট করেছে। অধিকাংশ খুনের নেপথ্যে মাদক ব্যবসা এবং এলাকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দ্বন্দ্বকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক খুনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, শুটারদের এই তৎপরতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম ও অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং নির্বাচনের সময় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থাকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।