ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

গুম হওয়া পরিবারের পাশে তারেক রহমান: ‘শহীদদের নামে হবে সরকারি স্থাপনার নামকরণ’

গত দেড় দশকে আওয়ামী শাসনামলে গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর আর্তনাদ ও অপেক্ষাকে রাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল দায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামীতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে প্রতিটি গুম ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনাগুলোর নামকরণ করা হবে তাঁদের নামে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের বেদনাদায়ক আকুতি শুনে তারেক রহমান নিজেও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

তারেক রহমান বলেন, “বহু সন্তান আজও এই অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে আছে যে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে কড়া নাড়বেন। এই অপেক্ষা ও কষ্ট সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমানো যাবে না। কৌশলের নামে দলের কর্মীরা কখনো ‘গুপ্ত বা সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথ ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিষয়ে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হলেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি চরম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একাত্তরের শহীদ থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র সব সময় থাকবে এবং তাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁদের নিদারুণ কষ্টের কথা তুলে ধরেন। সভা শেষে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিকে, সন্ধ্যায় তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় টেলিকম খাত ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট: নতুন লাইসেন্সিং নীতিমালার ব্যবচ্ছেদ

গুম হওয়া পরিবারের পাশে তারেক রহমান: ‘শহীদদের নামে হবে সরকারি স্থাপনার নামকরণ’

আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

গত দেড় দশকে আওয়ামী শাসনামলে গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর আর্তনাদ ও অপেক্ষাকে রাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল দায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামীতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে প্রতিটি গুম ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনাগুলোর নামকরণ করা হবে তাঁদের নামে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের বেদনাদায়ক আকুতি শুনে তারেক রহমান নিজেও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

তারেক রহমান বলেন, “বহু সন্তান আজও এই অপেক্ষায় দরজার দিকে তাকিয়ে আছে যে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে কড়া নাড়বেন। এই অপেক্ষা ও কষ্ট সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমানো যাবে না। কৌশলের নামে দলের কর্মীরা কখনো ‘গুপ্ত বা সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথ ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিষয়ে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হলেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি চরম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একাত্তরের শহীদ থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র সব সময় থাকবে এবং তাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা তাঁদের নিদারুণ কষ্টের কথা তুলে ধরেন। সভা শেষে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিকে, সন্ধ্যায় তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।