ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ছাত্রশিবিরের সংহতি: দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সাত কলেজকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর অধ্যাদেশ জারির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শিবিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সংহতি ও দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য ও প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান ঘটানো। কিন্তু সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি নিয়ে কালক্ষেপণ করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের অভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাত কলেজের প্রশাসনিক সংকট নিরসনে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো এখন সময়ের দাবি এবং শিক্ষার্থীরা আর কোনো অনিয়ম বা সমন্বয়হীনতার বোঝা বইতে রাজি নয়।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেয় যে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না করে কালক্ষেপণ করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। যার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই কেবল এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সবশেষে, শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হওয়াকে জাতির জন্য দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেন শিবির নেতৃবৃন্দ। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংযমী ভূমিকা পালন করারও আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার অনতিবিলম্বে সাত কলেজের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় টেলিকম খাত ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট: নতুন লাইসেন্সিং নীতিমালার ব্যবচ্ছেদ

সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ছাত্রশিবিরের সংহতি: দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি

আপডেট সময় : ১২:৫০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সাত কলেজকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর অধ্যাদেশ জারির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) শিবিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সংহতি ও দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আজ চরম অনিশ্চয়তা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য ও প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান ঘটানো। কিন্তু সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি নিয়ে কালক্ষেপণ করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের অভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাত কলেজের প্রশাসনিক সংকট নিরসনে একটি স্বতন্ত্র কাঠামো এখন সময়ের দাবি এবং শিক্ষার্থীরা আর কোনো অনিয়ম বা সমন্বয়হীনতার বোঝা বইতে রাজি নয়।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেয় যে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না করে কালক্ষেপণ করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। যার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই কেবল এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সবশেষে, শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হওয়াকে জাতির জন্য দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেন শিবির নেতৃবৃন্দ। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংযমী ভূমিকা পালন করারও আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার অনতিবিলম্বে সাত কলেজের দাবি মেনে নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।