ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলা মানেই ‘অসদাচরণ’: কঠোর সতর্কবার্তা দিল সরকার

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা বা শৈথিল্য দেখালে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত পৃথক নির্দেশনা জারি করে সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সরকারের এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে কর্মরত বলে গণ্য হবেন। দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার ভুল তথ্য প্রদান বা অবহেলা করলে তাকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনানুগ শাস্তি প্রদান করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এবং বিভিন্ন সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা প্রত্যেকেই আইনের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন এবং কমিশনের যেকোনো আইনানুগ আদেশ পালনে বাধ্য থাকবেন। বিশেষ করে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়ে সজাগ থাকতে ইউজিসি ও মাউশিসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনের ৪ ও ৫ ধারায় যা আছে: ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ এর ৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কর্মকর্তা নিযুক্ত হওয়ার পর যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। নিয়োগের তারিখ থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা কমিশনের অধীনে প্রেষণে আছেন বলে গণ্য হবেন। ৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশনের আদেশ অমান্য করেন বা দায়িত্বে অবহেলা করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও যদি তিনি কমিশনের কোনো নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকেন, তবে তিনিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যৌথভাবে এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবে যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় টেলিকম খাত ধ্বংসের ব্লুপ্রিন্ট: নতুন লাইসেন্সিং নীতিমালার ব্যবচ্ছেদ

নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলা মানেই ‘অসদাচরণ’: কঠোর সতর্কবার্তা দিল সরকার

আপডেট সময় : ১২:৪৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা বা শৈথিল্য দেখালে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত পৃথক নির্দেশনা জারি করে সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সরকারের এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে কর্মরত বলে গণ্য হবেন। দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার ভুল তথ্য প্রদান বা অবহেলা করলে তাকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনানুগ শাস্তি প্রদান করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এবং বিভিন্ন সরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা প্রত্যেকেই আইনের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন এবং কমিশনের যেকোনো আইনানুগ আদেশ পালনে বাধ্য থাকবেন। বিশেষ করে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়ে সজাগ থাকতে ইউজিসি ও মাউশিসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনের ৪ ও ৫ ধারায় যা আছে: ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ এর ৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কর্মকর্তা নিযুক্ত হওয়ার পর যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না। নিয়োগের তারিখ থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা কমিশনের অধীনে প্রেষণে আছেন বলে গণ্য হবেন। ৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশনের আদেশ অমান্য করেন বা দায়িত্বে অবহেলা করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও যদি তিনি কমিশনের কোনো নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকেন, তবে তিনিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যৌথভাবে এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবে যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।