যথাযথ ও সুশৃঙ্খল যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের বিত্তবানরা যদি শরিয়াহ মোতাবেক সঠিক নিয়মে যাকাত প্রদান করেন এবং সেই সংগৃহীত অর্থ যদি পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা হয়, তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘যাকাত কনফারেন্স ২০২৪’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে দারিদ্র্যকে একটি জাতির জন্য অভিশাপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয়, তবেই সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। দারিদ্র্য কোনো রাষ্ট্রকে গ্রাস করলে সেই দেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যাকাতের সুষ্ঠু আহরণ ও বণ্টনের মাধ্যমে আমরা কেবল দারিদ্র্যই দূর করব না, বরং বিদেশের কাছে হাত পাতার হীন প্রবণতা থেকেও মুক্তি পাব।
রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কয়েকশ বছর পর্যন্ত যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগ্রহ ও বিতরণ করা হতো। হযরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের সময় এই ব্যবস্থাপনা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মিশরসহ বিভিন্ন প্রদেশে যাকাত নেওয়ার মতো কোনো দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।
বাংলাদেশে যাকাত ব্যবস্থাপনার বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাবে যাকাত আদায় ও বিতরণ কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি সুসংগঠিত হতে পারেনি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিলেও এটি এখনো ঐচ্ছিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। তিনি সকলকে শরিয়তের বিধান অনুসারে যাকাত আদায়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শামছুল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান এবং বিশিষ্ট আলেম মুফতি জুবায়ের আবদুল্লাহ। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 















