ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি, তিনি ছিলেন অনন্য রাষ্ট্রনায়ক: ড. মঈন খান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি ছিলেন রাজনীতির প্রচলিত সংজ্ঞার অনেক ঊর্ধ্বে। মূলত নিজের দূরদর্শী চিন্তা, কর্মদক্ষতা এবং জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমেই তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা ও প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অতুলনীয়। তিনি কেবল একজন নেত্রীই ছিলেন না, বরং গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমি যখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, তিনি একদিনের জন্যও আমার কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য কখনো চাপও দেননি। তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছিলেন।”

প্রশাসনিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়ে মঈন খান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু একবার একজন সচিবকে আমার মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করার আগে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি তাকে নিতে আগ্রহী কি না। একজন প্রধানমন্ত্রীর এমন গণতান্ত্রিক আচরণ ও সহকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নজির বিরল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে নেতৃত্বের অসাধারণ গুণের পাশাপাশি মাতৃত্বের মমতাও ছিল। এদেশের মানচিত্র যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি জনগণের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন।

সভার মূল প্রবন্ধে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দেশের উন্নয়নে তার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

আইনজীবী এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার আদর্শকে পাথেয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ক পুনরুজ্জীবন, আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি, তিনি ছিলেন অনন্য রাষ্ট্রনায়ক: ড. মঈন খান

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি ছিলেন রাজনীতির প্রচলিত সংজ্ঞার অনেক ঊর্ধ্বে। মূলত নিজের দূরদর্শী চিন্তা, কর্মদক্ষতা এবং জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমেই তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা ও প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অতুলনীয়। তিনি কেবল একজন নেত্রীই ছিলেন না, বরং গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমি যখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, তিনি একদিনের জন্যও আমার কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য কখনো চাপও দেননি। তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ করে দিয়েছিলেন।”

প্রশাসনিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়ে মঈন খান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু একবার একজন সচিবকে আমার মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করার আগে তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি তাকে নিতে আগ্রহী কি না। একজন প্রধানমন্ত্রীর এমন গণতান্ত্রিক আচরণ ও সহকর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নজির বিরল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে নেতৃত্বের অসাধারণ গুণের পাশাপাশি মাতৃত্বের মমতাও ছিল। এদেশের মানচিত্র যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি জনগণের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন।

সভার মূল প্রবন্ধে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বেগম জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দেশের উন্নয়নে তার আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

আইনজীবী এসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার আদর্শকে পাথেয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।