ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থি আইপ্যাকের প্রভাব কি কমছে?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের ইসরায়েলের পক্ষে টানতে বরাবরই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এসেছে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক)। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। আসন্ন ২৩ জুনের প্রাথমিক বাছাই (প্রাইমারি) নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন উল্টো আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার গত বছরের শেষের দিকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ওয়াশিংটনে গিয়ে ‘আইপ্যাকের হুকুম’ তামিল করবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় ল্যান্ডার আইপ্যাককে ওয়াল স্ট্রিট ও ক্রিপ্টো কারেন্সির সঙ্গে তুলনা করে একে গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান আইনপ্রণেতা ড্যান গোল্ডম্যান আইপ্যাকের সমর্থন নিলেও কোনো রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটির (প্যাক) তহবিল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং আইপ্যাককে প্রয়োজনে ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইপ্যাক সাধারণত সদস্যদের ইসরায়েলবিরোধী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান এবং ইসরায়েলপন্থিদের সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে কাজ করে। তাদের একটি ‘সুপার প্যাক’ রয়েছে, যার নাম ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপী)। এই সুপার প্যাকে দাতারা ইচ্ছামতো অর্থ দিতে পারেন এবং সেই অর্থ প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় খরচ করা হয়। এবারের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাক বিপুল অর্থ খরচ করলেও ফলাফল এসেছে মিশ্র।

আইপ্যাকের মুখপাত্র প্যাট্রিক ডরটন অবশ্য দাবি করেছেন যে, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর একটি প্রান্তিক বাম অংশ প্রাইমারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, আর আইপ্যাক কেবল দলের ইসরায়েলপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে রক্ষা করছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যখন ইসরায়েলে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন বড় দাতাদের গোপন অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েলকে রক্ষা করার এই চেষ্টা আইপ্যাককে খোদ বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দশক ধরে আইপ্যাক দ্বিপক্ষীয় ও অপরাজেয় ছিল। তবে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে এই ঐকমত্যে ফাটল ধরে, যা ইসরায়েল সরকারের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। সেই থেকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আইপ্যাকের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রাক্কালে লেবাননে ইসরাইলের বড় হামলার শঙ্কা: বৈরুতে তীব্র উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থি আইপ্যাকের প্রভাব কি কমছে?

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের ইসরায়েলের পক্ষে টানতে বরাবরই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এসেছে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক)। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। আসন্ন ২৩ জুনের প্রাথমিক বাছাই (প্রাইমারি) নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন উল্টো আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার গত বছরের শেষের দিকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি ওয়াশিংটনে গিয়ে ‘আইপ্যাকের হুকুম’ তামিল করবেন না। নির্বাচনী প্রচারণায় ল্যান্ডার আইপ্যাককে ওয়াল স্ট্রিট ও ক্রিপ্টো কারেন্সির সঙ্গে তুলনা করে একে গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান আইনপ্রণেতা ড্যান গোল্ডম্যান আইপ্যাকের সমর্থন নিলেও কোনো রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটির (প্যাক) তহবিল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং আইপ্যাককে প্রয়োজনে ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইপ্যাক সাধারণত সদস্যদের ইসরায়েলবিরোধী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান এবং ইসরায়েলপন্থিদের সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে কাজ করে। তাদের একটি ‘সুপার প্যাক’ রয়েছে, যার নাম ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপী)। এই সুপার প্যাকে দাতারা ইচ্ছামতো অর্থ দিতে পারেন এবং সেই অর্থ প্রার্থীদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় খরচ করা হয়। এবারের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাক বিপুল অর্থ খরচ করলেও ফলাফল এসেছে মিশ্র।

আইপ্যাকের মুখপাত্র প্যাট্রিক ডরটন অবশ্য দাবি করেছেন যে, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর একটি প্রান্তিক বাম অংশ প্রাইমারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, আর আইপ্যাক কেবল দলের ইসরায়েলপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে রক্ষা করছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যখন ইসরায়েলে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন বড় দাতাদের গোপন অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েলকে রক্ষা করার এই চেষ্টা আইপ্যাককে খোদ বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দশক ধরে আইপ্যাক দ্বিপক্ষীয় ও অপরাজেয় ছিল। তবে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে এই ঐকমত্যে ফাটল ধরে, যা ইসরায়েল সরকারের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। সেই থেকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আইপ্যাকের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।