ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ: ফুটবলের আবেদন হারাচ্ছে?

২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তটি প্রায় ১.৫ বিলিয়ন দর্শক দেখেছিল। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সেই ফাইনালকে অনেকেই আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করেন। মেসির মহাকাব্যিক উত্থান থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মিলিয়ে ইতিহাসের সেরা ফাইনালের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল সেই আসর। কিন্তু সেই টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আজও থামেনি। কাতার বিশ্বকাপে মানবাধিকার, অভিবাসী শ্রমিকদের পরিস্থিতি এবং সমকামীদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা বড় ক্রীড়া আয়োজনকে ‘স্পোর্টসওয়াশিং’-এর জন্য ব্যবহার করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ইতোমধ্যেই পর্দা তুলেছে। কিন্তু আসর শুরুর আগে থেকেই ফিফার সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বিশ্বকাপকে আখ্যায়িত করেছেন ফিফার বাণিজ্যের মূল অস্ত্র হিসেবে। যাকে ফিফার ‘বাণিজ্য বিতান’ বললেও সম্ভবত ভুল হয় না।

ফিফা এবারের বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করেছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, টুর্নামেন্ট দীর্ঘ হয়েছে এবং আয়োজন আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ফাইনালে হাফটাইম শো যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পীদের পারফরম্যান্স থাকবে। সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তন ফুটবলের খেলার সৌন্দর্য নয়, বরং বাণিজ্যিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ এখন ধীরে ধীরে একটি বিনোদন পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিকিটের দাম নিয়ে। প্রথমবারের মতো ফিফা সরাসরি টিকিট বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ ও রিসেল ফি চালু করেছে। ফুটবল সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) অভিযোগ করেছে, অনেক সাধারণ দর্শক এখন বিশ্বকাপ দেখার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে সবচেয়ে সস্তা টিকিট ছিল ৫৫ ডলার, ২০২৬ বিশ্বকাপে তা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ৫৬০ ডলারে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু টিকিট নয়; ভ্রমণ, হোটেল ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একটি ম্যাচ দেখতে যাওয়ার ব্যয় এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মতে, বিশ্বকাপকে এভাবে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার ফলে ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী আবেদন এবং সাধারণ ভক্তদের অংশগ্রহণ হুমকির মুখে পড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রাক্কালে লেবাননে ইসরাইলের বড় হামলার শঙ্কা: বৈরুতে তীব্র উদ্বেগ

ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ: ফুটবলের আবেদন হারাচ্ছে?

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মুহূর্তটি প্রায় ১.৫ বিলিয়ন দর্শক দেখেছিল। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সেই ফাইনালকে অনেকেই আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করেন। মেসির মহাকাব্যিক উত্থান থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মিলিয়ে ইতিহাসের সেরা ফাইনালের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল সেই আসর। কিন্তু সেই টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আজও থামেনি। কাতার বিশ্বকাপে মানবাধিকার, অভিবাসী শ্রমিকদের পরিস্থিতি এবং সমকামীদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা বড় ক্রীড়া আয়োজনকে ‘স্পোর্টসওয়াশিং’-এর জন্য ব্যবহার করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ইতোমধ্যেই পর্দা তুলেছে। কিন্তু আসর শুরুর আগে থেকেই ফিফার সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই বিশ্বকাপকে আখ্যায়িত করেছেন ফিফার বাণিজ্যের মূল অস্ত্র হিসেবে। যাকে ফিফার ‘বাণিজ্য বিতান’ বললেও সম্ভবত ভুল হয় না।

ফিফা এবারের বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করেছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, টুর্নামেন্ট দীর্ঘ হয়েছে এবং আয়োজন আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ফাইনালে হাফটাইম শো যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পীদের পারফরম্যান্স থাকবে। সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তন ফুটবলের খেলার সৌন্দর্য নয়, বরং বাণিজ্যিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ এখন ধীরে ধীরে একটি বিনোদন পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিকিটের দাম নিয়ে। প্রথমবারের মতো ফিফা সরাসরি টিকিট বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ ও রিসেল ফি চালু করেছে। ফুটবল সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) অভিযোগ করেছে, অনেক সাধারণ দর্শক এখন বিশ্বকাপ দেখার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে সবচেয়ে সস্তা টিকিট ছিল ৫৫ ডলার, ২০২৬ বিশ্বকাপে তা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ৫৬০ ডলারে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু টিকিট নয়; ভ্রমণ, হোটেল ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একটি ম্যাচ দেখতে যাওয়ার ব্যয় এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মতে, বিশ্বকাপকে এভাবে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার ফলে ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী আবেদন এবং সাধারণ ভক্তদের অংশগ্রহণ হুমকির মুখে পড়ছে।