নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির মিত্র দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেক আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে। তবে আসনবঞ্চিত হওয়ার এই তিক্ততা ভুলে মিত্র দলগুলোর নেতারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন একটি বড় প্রত্যাশাকে সামনে রেখে। তাদের আশা, নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও কিংবা আসন না পেলেও, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের জন্য ‘জাতীয় সরকার’ অথবা প্রস্তাবিত সংসদের ‘উচ্চকক্ষে’ সম্মানজনক স্থান নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মনোভাবই ফুটে উঠেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারনী মহলও মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, বিএনপি শুরু থেকেই একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সাথে ছিল, নির্বাচনের পর তাদের যথাযথ মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক মিত্রকে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হচ্ছে, যা আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি করেছে। বিএনপি বরাবরই বলে আসছে যে, ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফার আলোকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হবে, যেখানে যোগ্য মিত্রদের জায়গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আসন সমঝোতার বাস্তব চিত্র বলছে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ছাড় পায়নি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। বিএনপি মিত্রদের জন্য মাত্র ১৬টি আসন ছেড়েছে, যার মধ্যে ৮টি আসনেই বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। গণফোরামের মতো দল একটি আসনও না পাওয়ায় তাদের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী একে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, বিএনপি আসন সমঝোতার বিষয়টি আরও প্রজ্ঞার সাথে সমাধান করতে পারত। তবে বিদ্যমান অসন্তুষ্টি ও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব সত্ত্বেও বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে তারা নির্বাচনে থাকছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরও আসন সমঝোতা নিয়ে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমনে বিএনপির জোরালো ভূমিকার অভাব তাদের ভাবিয়ে তুলছে। তবে তারেক রহমানের দেওয়া ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতিই এখন তাদের প্রধান ভরসা। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে তিনি সম্মানজনক মূল্যায়নের আশ্বাস পেয়েছেন। মূলত ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার এই দীর্ঘমেয়াদী আশাই এখন বিএনপির মিত্রদের নির্বাচনী মাঠে টিকিয়ে রেখেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























