দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে চরম মতবিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে এসে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি সারা দেশের ২৬৮টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং বাকি ৩২টি আসনে সমমনা প্রার্থীদের সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে ইসলামপন্থী ভোটব্যাংক স্পষ্টত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে তারা চরম উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে গোপন সমঝোতার ফলে আগামী নির্বাচন একটি ‘পাতানো খেলায়’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার অংশীদার হতে তারা নারাজ। এদিকে, দুই শীর্ষ নেতা সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ও সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের অনুপস্থিতিতে এই ঘোষণা আসায় রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের জন্য যথেষ্ট সম্মান ও আসন ফাঁকা রেখেছিলেন। মূলত আসনের সংখ্যা নিয়ে দরকষাকষিই এই বিচ্ছেদের মূল কারণ। ইসলামী আন্দোলন ৭০-৮০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত প্রথমে ৩০-৩৫ এবং পরে সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে সম্মত হয়েছিল। এই মতানৈক্যের পর জামায়াত এখন তাদের ১০-দলীয় জোট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভক্তির ফলে ভোটের মাঠে ইসলামপন্থীদের অবস্থান এখন তিনটি ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। প্রথম ধারায় রয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, যাতে ৫টি ইসলামি দল অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় ধারায় ইসলামী আন্দোলন একক শক্তিতে লড়ছে। আর তৃতীয় ধারায় বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দল রয়েছে। বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদের মতে, দীর্ঘ সময় জোটবদ্ধ হওয়ার আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে এই বিচ্ছেদ দলগুলোর রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতারই পরিচয় দেয়, যা ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























