ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শবে মেরাজ: অলৌকিক ঊর্ধ্বগমন ও ঐশী বিধানের অনন্য রাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র শবে মেরাজ এক অবিস্মরণীয় ও অলৌকিক ঘটনা। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং মানবজাতির জন্য দিকনির্দেশনামূলক ঐশী বিধান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রাত, যা নবুয়তের সত্যতা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বকে সুস্পষ্ট করে তোলে।

‘মেরাজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি। ইসলামি পরিভাষায়, মেরাজ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সশরীরে, জাগ্রত ও সচেতন অবস্থায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ও মিকাইল (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ বাহন ‘বোরাক’-এর মাধ্যমে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে সপ্তাকাশ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ। এই মহিমান্বিত সফরে তিনি রাব্বুল আলামিনের একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেন, জান্নাত-জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। মেরাজের প্রথম অংশ, অর্থাৎ মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত রাত্রিকালীন ভ্রমণকে ‘ইসরা’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই ইসরা সম্পর্কে বলেন: “তিনি পবিত্র সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত—যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি—যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মেরাজের ঘটনা নবুয়তের একাদশ বছরে রজব মাসে সংঘটিত হয়, যখন নবীজি (সা.)-এর বয়স ছিল ৫১ বছর। এটি কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক দর্শন ছিল না; বরং সশরীরে সংঘটিত এক বাস্তব ও অলৌকিক ঘটনা। এর অন্যতম প্রমাণ হলো তৎকালীন কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের তীব্র অবিশ্বাস ও বিদ্রূপ। যদি এটি কেবল একটি স্বপ্ন বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হতো, তবে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকত না।

পবিত্র কোরআনের সুরা নাজম ও সুরা বনি ইসরাইলে মেরাজের ঘটনাবলি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সুরা নাজমের প্রথম ১৮টি আয়াতে নবীজি (সা.)-এর আসমানি দর্শন, জিবরাইল (আ.)-এর সাক্ষাৎ, সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর অসীম নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার অসংখ্য নির্ভরযোগ্য হাদিসে ইসরা ও মেরাজের বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান, যা ইসলামের আকিদা ও ইতিহাসের অকাট্য প্রমাণ।

এক রাতে নবীজি (সা.) ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি এক অবস্থায় ছিলেন, যখন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে আসেন। আল্লাহর হিকমতে নবীজির বুক বিদীর্ণ করে জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধৌত করা হয় এবং ঈমান ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ করে পুনরায় স্থাপন করা হয়। এটি ছিল নবীজি (সা.)-কে আসমানি সফরের জন্য প্রস্তুত করার এক বিশেষ ব্যবস্থা।

এরপর তাঁর জন্য উপস্থিত করা হয় ‘বোরাক’ নামক এক অনন্য বাহন, যার গতি ছিল অবিশ্বাস্য—এক কদমে চোখ যতদূর যায় তার শেষ প্রান্তে। এই বাহনে আরোহণ করে নবীজি (সা.) মুহূর্তের মধ্যে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সব নবীর ইমামতি করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

এরপর শুরু হয় ঊর্ধ্বাকাশের দিকে আরোহণ। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিটি আসমানে প্রবেশের আগে জিবরাইল (আ.) সংশ্লিষ্ট আসমানের প্রহরী ফেরেশতাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন, যা আসমানি শৃঙ্খলা ও আল্লাহর দরবারের অসীম মর্যাদার প্রমাণ। প্রতিটি আসমানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। প্রথম আসমানে আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে ইসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ইবরাহিম (আ.)-কে নবীজি (সা.) বাইতুল মামুরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখেন। এটি আসমানের কাবা, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদত করতে প্রবেশ করেন এবং যারা একবার প্রবেশ করেন, তারা আর কখনো ফিরে আসার সুযোগ পান না।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছান সৃষ্টিজগতের চূড়ান্ত সীমা ‘সিদরাতুল মুনতাহা’য়। এখানেই জিবরাইল (আ.) থেমে যান এবং বলেন, ‘আমি যদি এখান থেকে সামান্যও অগ্রসর হই, তবে আমি জ্বলে-পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।’ এই সীমা অতিক্রম করে একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) অগ্রসর হন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। এই মহিমান্বিত অবস্থায় প্রথমে উম্মতের ওপর দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে নবীজি (সা.) বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে যান। প্রতিবারই নামাজের সংখ্যা কমতে থাকে এবং অবশেষে তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়। তবে আল্লাহ তায়ালা দয়া করে এর সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমানই রেখে দেন। (বুখারি: ৩২০৭)

এই মহিমান্বিত রজনিতে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য চৌদ্দ দফার এক মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করেন, যা তাওহিদ, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নৈতিকতা ও ব্যক্তিচরিত্র—সবকিছুর দিকনির্দেশনা দেয়। এগুলো হলো—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়, মিসকিন ও পথচারীর হক প্রদান, অপচয় পরিহার, কৃপণতা বর্জন, সন্তান হত্যা নিষিদ্ধকরণ, ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা না করা, এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, মাপে ও ওজনে পূর্ণতা, অজ্ঞতার অনুসরণ বর্জন এবং অহংকার পরিহার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এসব কাজই মন্দ এবং তিনি এগুলো অপছন্দ করেন। (সুরা বনি ইসরাইল: ২২-৪৪)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাবন্দি ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসার আবেদন: সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পিটিআই

শবে মেরাজ: অলৌকিক ঊর্ধ্বগমন ও ঐশী বিধানের অনন্য রাত

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র শবে মেরাজ এক অবিস্মরণীয় ও অলৌকিক ঘটনা। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং মানবজাতির জন্য দিকনির্দেশনামূলক ঐশী বিধান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রাত, যা নবুয়তের সত্যতা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বকে সুস্পষ্ট করে তোলে।

‘মেরাজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা সিঁড়ি। ইসলামি পরিভাষায়, মেরাজ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সশরীরে, জাগ্রত ও সচেতন অবস্থায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ও মিকাইল (আ.)-এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ বাহন ‘বোরাক’-এর মাধ্যমে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে সপ্তাকাশ অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ। এই মহিমান্বিত সফরে তিনি রাব্বুল আলামিনের একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেন, জান্নাত-জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন। মেরাজের প্রথম অংশ, অর্থাৎ মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত রাত্রিকালীন ভ্রমণকে ‘ইসরা’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই ইসরা সম্পর্কে বলেন: “তিনি পবিত্র সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত—যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি—যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সুরা বনি ইসরাইল: ১)

প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী, মেরাজের ঘটনা নবুয়তের একাদশ বছরে রজব মাসে সংঘটিত হয়, যখন নবীজি (সা.)-এর বয়স ছিল ৫১ বছর। এটি কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক দর্শন ছিল না; বরং সশরীরে সংঘটিত এক বাস্তব ও অলৌকিক ঘটনা। এর অন্যতম প্রমাণ হলো তৎকালীন কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের তীব্র অবিশ্বাস ও বিদ্রূপ। যদি এটি কেবল একটি স্বপ্ন বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হতো, তবে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকত না।

পবিত্র কোরআনের সুরা নাজম ও সুরা বনি ইসরাইলে মেরাজের ঘটনাবলি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সুরা নাজমের প্রথম ১৮টি আয়াতে নবীজি (সা.)-এর আসমানি দর্শন, জিবরাইল (আ.)-এর সাক্ষাৎ, সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর অসীম নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করার কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার অসংখ্য নির্ভরযোগ্য হাদিসে ইসরা ও মেরাজের বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান, যা ইসলামের আকিদা ও ইতিহাসের অকাট্য প্রমাণ।

এক রাতে নবীজি (সা.) ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি এক অবস্থায় ছিলেন, যখন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে আসেন। আল্লাহর হিকমতে নবীজির বুক বিদীর্ণ করে জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধৌত করা হয় এবং ঈমান ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ করে পুনরায় স্থাপন করা হয়। এটি ছিল নবীজি (সা.)-কে আসমানি সফরের জন্য প্রস্তুত করার এক বিশেষ ব্যবস্থা।

এরপর তাঁর জন্য উপস্থিত করা হয় ‘বোরাক’ নামক এক অনন্য বাহন, যার গতি ছিল অবিশ্বাস্য—এক কদমে চোখ যতদূর যায় তার শেষ প্রান্তে। এই বাহনে আরোহণ করে নবীজি (সা.) মুহূর্তের মধ্যে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সব নবীর ইমামতি করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

এরপর শুরু হয় ঊর্ধ্বাকাশের দিকে আরোহণ। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিটি আসমানে প্রবেশের আগে জিবরাইল (আ.) সংশ্লিষ্ট আসমানের প্রহরী ফেরেশতাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন, যা আসমানি শৃঙ্খলা ও আল্লাহর দরবারের অসীম মর্যাদার প্রমাণ। প্রতিটি আসমানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। প্রথম আসমানে আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে ইসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ইবরাহিম (আ.)-কে নবীজি (সা.) বাইতুল মামুরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখেন। এটি আসমানের কাবা, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদত করতে প্রবেশ করেন এবং যারা একবার প্রবেশ করেন, তারা আর কখনো ফিরে আসার সুযোগ পান না।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছান সৃষ্টিজগতের চূড়ান্ত সীমা ‘সিদরাতুল মুনতাহা’য়। এখানেই জিবরাইল (আ.) থেমে যান এবং বলেন, ‘আমি যদি এখান থেকে সামান্যও অগ্রসর হই, তবে আমি জ্বলে-পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।’ এই সীমা অতিক্রম করে একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) অগ্রসর হন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। এই মহিমান্বিত অবস্থায় প্রথমে উম্মতের ওপর দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে নবীজি (সা.) বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে যান। প্রতিবারই নামাজের সংখ্যা কমতে থাকে এবং অবশেষে তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়। তবে আল্লাহ তায়ালা দয়া করে এর সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমানই রেখে দেন। (বুখারি: ৩২০৭)

এই মহিমান্বিত রজনিতে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য চৌদ্দ দফার এক মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করেন, যা তাওহিদ, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নৈতিকতা ও ব্যক্তিচরিত্র—সবকিছুর দিকনির্দেশনা দেয়। এগুলো হলো—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়, মিসকিন ও পথচারীর হক প্রদান, অপচয় পরিহার, কৃপণতা বর্জন, সন্তান হত্যা নিষিদ্ধকরণ, ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা না করা, এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, মাপে ও ওজনে পূর্ণতা, অজ্ঞতার অনুসরণ বর্জন এবং অহংকার পরিহার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এসব কাজই মন্দ এবং তিনি এগুলো অপছন্দ করেন। (সুরা বনি ইসরাইল: ২২-৪৪)