নতুন শিক্ষাবর্ষের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক স্তরের ১ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর হাতে এখনো পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। গত ২৮ ডিসেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বই ছাড়াই পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে এনসিটিবি আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছে। এনসিটিবি কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে বই দিতে এপ্রিল পর্যন্ত সময় লাগলেও এবার ৩০ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে পারলে সেটি হবে একটি বড় অর্জন।
এদিকে, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শতাধিক ছাপাখানার বিরুদ্ধে। পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পরিদর্শনকারী দল বিভিন্ন ছাপাখানা থেকে এ পর্যন্ত মাধ্যমিকের ২৫ লাখ এবং প্রাথমিকের ১৭ লাখসহ মোট ৪২ লাখ নিম্নমানের বই বাতিল করে বিনষ্ট করেছে। এছাড়া ৩ হাজার টন নিম্নমানের মুদ্রণ কাগজ এবং প্রায় আড়াই কোটি ফর্মাও জব্দ ও অপসারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফর্মা মিসিং, বাঁধাই ত্রুটি এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিচুমানের কাগজ ব্যবহারের দায়ে ৬৭টি ছাপাখানার বই বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ইন্সপেকশন কোম্পানিকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেছে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৬ বছর ধরে পাঠ্যবই ছাপানোর ক্ষেত্রে এক শ্রেণির সিন্ডিকেট নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি মান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নিম্নমানের বইগুলো শনাক্ত করে সরাসরি কেটে ফেলা হচ্ছে। ছাপাখানার মালিকরা শেষ সময়ে চুক্তি করে তাড়াহুড়ো সৃষ্টি করার কৌশল নিলেও এবার ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এনসিটিবি কর্মকর্তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের হাতে সুন্দর ও মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























