ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার মাত্র ১০৯ জন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৬৮ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৪১ জন নারী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
দলগুলোর মধ্যে বিএনপি থেকে ১০ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ৬ জন, জেএসডি থেকে ৬ জন এবং গণসংহতি আন্দোলন থেকে ৫ জন নারী প্রার্থী লড়াই করছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি ৩ জন করে নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২৯টি রাজনৈতিক দল কোনো নারী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়নি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নারীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী কোটিপতি সম্পদের মালিক। এর মধ্যে ১৭ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের পর ঢাকা-৯ আসনের তাসনিম জারা, কুমিল্লা-৬ এর কামরুন্নাহার সাথী এবং খুলনা-৫ এর শামীম আরা পারভিনসহ বেশ কয়েকজন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঘোষিত অন্তত ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম। সংগঠনটির মতে, এটি নারী নেতৃত্বের প্রতি দলগুলোর অনীহা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি নারী হলেও নির্বাচনে তাদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হওয়া নারীর অধিকারের পরাজয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি দলের মধ্যে মাত্র ২২টি দল নারী প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ১৭৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও তাদের মধ্যে কোনো নারী নেই, অথচ দলটি দাবি করে তাদের নেতৃত্বে ৪০ শতাংশ নারী রয়েছে।
একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে শুধু পুরুষ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মতো দলগুলোও কোনো নারী প্রার্থী রাখেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বড় দলগুলোর এই দায়সারা মনোভাব এবং ছোট দলগুলোর অনীহা সংসদ নির্বাচনে নারীর সরাসরি অংশগ্রহণের পথকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























