আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগেই প্রচার শুরুর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার জবাব তাকে আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, শাহজাহান চৌধুরী প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনি প্রচার ও প্রীতিভোজে অংশ নেওয়ায় তাকেও সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে আইন অমান্যকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচনি সহিংসতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাও দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন সমন্বয়কের গাড়িতে হামলার অভিযোগে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অলি) আহমদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত প্রার্থীর বাসভবনের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে রহস্যময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, গভীর রাতে এই বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় থাকলেও ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনা সামাল দেওয়া ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই হবে কমিশনের প্রধান পরীক্ষা। ভোটাররা আশা করছেন, সব বাধা ও উত্তেজনা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
রিপোর্টারের নাম 























