দেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রধান প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এখন ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির ৫০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ঠিকমতো সচল আছে মাত্র ৯টি। ঘোড়াশালের ১৩৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মতো বিশাল কেন্দ্রসহ বেশির ভাগ ইউনিটই গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বয়সের ভারে অচল হয়ে পড়ে আছে।

বিস্ময়কর তথ্য হলো, বছরের একটি দিনও চালু হয় না এমন ২১টি কেন্দ্রের পেছনেও শুধু বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। যেমন—টঙ্গী ও শাহীবাজারের মতো কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো বিদ্যুৎ না মিললেও বছরে ৪৪ থেকে ২২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এর ফলে পিডিবির নিজস্ব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ গড়ে ৩১ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনের খেসারত দিচ্ছে পুরো জাতি। পিডিবি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বিদ্যুৎ কেনাবেচার ‘ট্রেডিং সেন্টারে’ পরিণত হয়েছে। ১০ বছর আগেও দেশের মোট চাহিদার ২৬ শতাংশ বিদ্যুৎ পিডিবি নিজে উৎপাদন করত, যা এখন মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে গ্যাসের তীব্র সংকটে পিডিবির আধুনিক ও সক্ষম কেন্দ্রগুলোও বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। কারণ, চুক্তির বাধ্যবাধকতায় ডলারের বিনিময়ে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হয় এমন বেসরকারি আইপিপি কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সরকারি সম্পদ অলস পড়ে থেকে সংস্থাটিকে বিশাল লোকসানের বোঝায় পরিণত করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পিডিবির উৎপাদন অংশীদারত্ব ৫০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। পিডিবির বর্তমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগের সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে সৃষ্ট এই সংকট কাটাতে বর্তমান সরকার উৎপাদন খরচ কমানোর কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঘোড়াশালের মতো বড় কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য নতুন পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের ওপর অতিনির্ভরশীলতা না কমালে বিদ্যুৎ খাতের এই আর্থিক রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























