ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন, ১০ দল নিয়ে নতুন যাত্রা নতুন নিউজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এটি এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে চলেছে। আসন বণ্টন নিয়ে মতানৈক্যের জের ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে যে, তাদের পক্ষে কমপক্ষে ৮০টি আসন না ছাড়লে জোটে থাকা সম্ভব নয়। এই অনড় অবস্থান জোটের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠকে মিলিত হয়।

এই বৈঠকে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক ইসলামী আন্দোলনের চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। তবে, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে মাওলানা মামুনুল হক জামায়াতের একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতির কথা জানান। জোটের একাধিক শরিক এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকছে না।

তবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্য সকল দল জোটে থাকছে বলে শরিক দলের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খেলাফত মজলিসের একজন নেতা জানিয়েছেন, জোটের অন্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগদানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাপ বাড়াতে থাকে। এনসিপির যোগদানকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহজভাবে নিতে পারেনি। এরপর দলটি দাবি করে যে, ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে এবং এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে আসন দাবি করে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ৪৫টিতে উন্নীত হয়। এর সঙ্গে ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের দাবিতে অনড় ছিল। জোটের অন্য শরিকেরা চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়া জামায়াতের জন্য সম্ভব ছিল না, কারণ এতে শুধু সম্ভাবনাময় আসনই হাতছাড়া হবে না, বরং অন্য দলগুলোও আরও বেশি আসন দাবি করত। এই পরিস্থিতিতে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এখন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তাদের ২৬৬টি আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় যুবশক্তির ঢাকা মহানগরের চার ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন, ১০ দল নিয়ে নতুন যাত্রা নতুন নিউজ

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এটি এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে চলেছে। আসন বণ্টন নিয়ে মতানৈক্যের জের ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে যে, তাদের পক্ষে কমপক্ষে ৮০টি আসন না ছাড়লে জোটে থাকা সম্ভব নয়। এই অনড় অবস্থান জোটের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠকে মিলিত হয়।

এই বৈঠকে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক ইসলামী আন্দোলনের চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। তবে, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে মাওলানা মামুনুল হক জামায়াতের একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতির কথা জানান। জোটের একাধিক শরিক এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকছে না।

তবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্য সকল দল জোটে থাকছে বলে শরিক দলের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খেলাফত মজলিসের একজন নেতা জানিয়েছেন, জোটের অন্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগদানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাপ বাড়াতে থাকে। এনসিপির যোগদানকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহজভাবে নিতে পারেনি। এরপর দলটি দাবি করে যে, ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে এবং এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে আসন দাবি করে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ৪৫টিতে উন্নীত হয়। এর সঙ্গে ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের দাবিতে অনড় ছিল। জোটের অন্য শরিকেরা চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়া জামায়াতের জন্য সম্ভব ছিল না, কারণ এতে শুধু সম্ভাবনাময় আসনই হাতছাড়া হবে না, বরং অন্য দলগুলোও আরও বেশি আসন দাবি করত। এই পরিস্থিতিতে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এখন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তাদের ২৬৬টি আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হবে।