ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

১১ দলীয় জোট ছাড়ছে চরমোনাইয়ের দল, ১০ দলের সমীকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাইয়ের দল। জোটের শরিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার পরও সমঝোতা না হওয়ায় তারা এই পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করে আসছিল। তাদের এই দাবি পূরণে অপারগতা জানায় জামায়াতে ইসলামী। আসন সংখ্যা নিয়ে এই মতপার্থক্যের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্য দলগুলো একসঙ্গে থাকছে। ফলে ১১ দলীয় জোটটি এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে চলেছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে আসন নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপি-র যোগদানকে তারা সহজভাবে নিতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করে, ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতাদের আসন নিয়ে তারা দর কষাকষি শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে তা ৪৫টিতে উন্নীত করা হয়। এর সঙ্গে আরও ৬-৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। জোটের অন্য শরিকেরা চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জামায়াতে ইসলামীও এত বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়তে রাজি ছিল না, কারণ এতে তাদের নিজেদের সম্ভাবনাময় আসনগুলো হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি অন্য দলগুলোর কাছ থেকেও আসন দাবির চাপ বাড়তো। এই পরিস্থিতিতে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের ২৬৬টি আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হবে। জোটের অন্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় যুবশক্তির ঢাকা মহানগরের চার ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা

১১ দলীয় জোট ছাড়ছে চরমোনাইয়ের দল, ১০ দলের সমীকরণ

আপডেট সময় : ১১:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাইয়ের দল। জোটের শরিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার পরও সমঝোতা না হওয়ায় তারা এই পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করে আসছিল। তাদের এই দাবি পূরণে অপারগতা জানায় জামায়াতে ইসলামী। আসন সংখ্যা নিয়ে এই মতপার্থক্যের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও অন্য দলগুলো একসঙ্গে থাকছে। ফলে ১১ দলীয় জোটটি এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে চলেছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে আসন নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপি-র যোগদানকে তারা সহজভাবে নিতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করে, ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতাদের আসন নিয়ে তারা দর কষাকষি শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে তা ৪৫টিতে উন্নীত করা হয়। এর সঙ্গে আরও ৬-৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। জোটের অন্য শরিকেরা চরমোনাই পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জামায়াতে ইসলামীও এত বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়তে রাজি ছিল না, কারণ এতে তাদের নিজেদের সম্ভাবনাময় আসনগুলো হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি অন্য দলগুলোর কাছ থেকেও আসন দাবির চাপ বাড়তো। এই পরিস্থিতিতে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের ২৬৬টি আসনে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হবে। জোটের অন্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আসন বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন।