ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজনীতিতে এসেছি: ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মন্ত্রী-এমপি হওয়া বা ব্যক্তিগত অর্থবিত্ত অর্জনের কোনো অভিপ্রায় তাঁর নেই। বরং নগরবাসীর সমস্যা সমাধান, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর নবাবপুরে দোকান মালিক সমিতি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নবাবপুরের ৯১ নম্বর মেউ চাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, “আমাদের প্রিয় এই ঢাকা শহর আজ যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও জরাজীর্ণ রাস্তাঘাটসহ অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও দারিদ্র্য থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়াই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি।”

রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর থেকে তিনি জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে আরও জোরালোভাবে যুক্ত হয়েছেন। দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অচিরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পাবে।

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমরা একটি চাঁদাবাজমুক্ত এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শহর গড়ে তোলা, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং শিশুরা দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠবে।”

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, তিনি কেবল একজন নেত্রী নন, বরং গণতন্ত্রের সংগ্রামের এক বিশ্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি যেভাবে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বড় শিক্ষা। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনই বিএনপির লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিশেষে তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক শহীদ, সহ-সভাপতি মুসাসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ওলামা-মাশায়েখগণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: প্রাণ হারাল ৮ শিশুসহ ১০ জন

ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের অধিকার রক্ষায় রাজনীতিতে এসেছি: ইশরাক হোসেন

আপডেট সময় : ১০:০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মন্ত্রী-এমপি হওয়া বা ব্যক্তিগত অর্থবিত্ত অর্জনের কোনো অভিপ্রায় তাঁর নেই। বরং নগরবাসীর সমস্যা সমাধান, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর নবাবপুরে দোকান মালিক সমিতি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নবাবপুরের ৯১ নম্বর মেউ চাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, “আমাদের প্রিয় এই ঢাকা শহর আজ যানজট, জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও জরাজীর্ণ রাস্তাঘাটসহ অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও দারিদ্র্য থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়াই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ঢাকা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি।”

রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর থেকে তিনি জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে আরও জোরালোভাবে যুক্ত হয়েছেন। দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অচিরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার ফিরে পাবে।

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমরা একটি চাঁদাবাজমুক্ত এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শহর গড়ে তোলা, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং শিশুরা দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠবে।”

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, তিনি কেবল একজন নেত্রী নন, বরং গণতন্ত্রের সংগ্রামের এক বিশ্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি যেভাবে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বড় শিক্ষা। কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনই বিএনপির লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিশেষে তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক শহীদ, সহ-সভাপতি মুসাসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ওলামা-মাশায়েখগণ।