ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ চলছে এবং সরকার দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, গত আগস্ট থেকে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমাদিয়া মুসলিম এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সহিংসতা চলছে। ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও লজ্জাজনক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চরম নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার প্রধান অভিযোগগুলো:
- সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার: শেখ হাসিনার দাবি, ড. ইউনূসের সরকার জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীকে পরোক্ষ সুরক্ষা ও বিচারহীনতার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং সরকার তা দমনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
- উসমান হাদি হত্যাকাণ্ড: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র উসমান হাদি (যিনি ১৮ ডিসেম্বর মারা যান) হত্যার বিষয়টি নিয়ে সরকার রাজনীতি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গণমাধ্যমের ওপর অসহনীয় আক্রমণের ঢেউ তোলা হয়েছে।
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর শাসনামলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে লিখতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সরকার সাংবাদিকদের ওপর ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করছে এবং ভিন্নমত দমন করছে।
- গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা: তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের প্রতিক্রিয়া: উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। যদিও র্যাবের তদন্তে ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এ ঘটনায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার এসব বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক ও মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাঁর অডিও বা ভিডিও প্রচারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচার করা আইনের লঙ্ঘন।
রিপোর্টারের নাম 

























