ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক ফয়সাল

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আইকন শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিরা এখনো অধরা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ সীমান্ত পার হয়ে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিলেও বর্তমানে তারা মুম্বাইয়ের একটি সুরক্ষিত এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। ‘ফয়সাল দুবাই পালিয়েছেন’ বলে যে খবর রটেছিল, তাকে স্রেফ বিভ্রান্তিকর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের মতে, বিশাল শহর মুম্বাইয়ে পরিচয় গোপন রেখে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের জন্য অনেক সহজ।

পূর্বপরিকল্পিত কিলিং মিশন ও পালানোর রুট: তদন্তে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সুসংগঠিত ‘কিলিং মিশন’। গত ৪ ডিসেম্বর থেকেই ফয়সাল ও আলমগীর হাদির সাথে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালায়। এমনকি তারা হাদির নির্বাচনী প্রচার টিমেও যুক্ত হয়েছিল রেকি করার জন্য। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে অত্যন্ত কাছ থেকে হাদিকে গুলি করে ফয়সাল। ওই রাতেই তারা ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এই পালানোর প্রক্রিয়ায় সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস বিপ্লব সরাসরি সহায়তা করেছেন বলে তথ্য মিলেছে।

ভারতের অসহযোগিতা ও কূটনৈতিক সংকট: গত ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) হাদি হত্যাকাণ্ডের সহযোগী বাপ্পী ও বিপ্লবসহ পাঁচজনকে আটক করলেও তাঁদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার খুনিদের অবস্থান নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। উল্টো দাবি করা হচ্ছে, খুনিরা তাদের ভূখণ্ডে নেই। অথচ কলকাতায় আটক হওয়া ওই পাঁচজনই ছিল মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে হত্যার নেপথ্যের মূল ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ পরিচয় স্পষ্ট হতো।

জনমনে ক্ষোভ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #JusticeForHadi হ্যাশট্যাগটি এখনো ট্রেন্ডিং। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কি বাংলাদেশের খুনিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে? অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক মনে করেন, চিহ্নিত খুনিরা যদি বিদেশের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করবে। বর্তমানে তদন্তকারীরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি না করলে চিহ্নিত ঘাতক ফয়সালকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক ফয়সাল

আপডেট সময় : ০১:২১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আইকন শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিরা এখনো অধরা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ সীমান্ত পার হয়ে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিলেও বর্তমানে তারা মুম্বাইয়ের একটি সুরক্ষিত এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। ‘ফয়সাল দুবাই পালিয়েছেন’ বলে যে খবর রটেছিল, তাকে স্রেফ বিভ্রান্তিকর গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের মতে, বিশাল শহর মুম্বাইয়ে পরিচয় গোপন রেখে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের জন্য অনেক সহজ।

পূর্বপরিকল্পিত কিলিং মিশন ও পালানোর রুট: তদন্তে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সুসংগঠিত ‘কিলিং মিশন’। গত ৪ ডিসেম্বর থেকেই ফয়সাল ও আলমগীর হাদির সাথে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালায়। এমনকি তারা হাদির নির্বাচনী প্রচার টিমেও যুক্ত হয়েছিল রেকি করার জন্য। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে অত্যন্ত কাছ থেকে হাদিকে গুলি করে ফয়সাল। ওই রাতেই তারা ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এই পালানোর প্রক্রিয়ায় সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস বিপ্লব সরাসরি সহায়তা করেছেন বলে তথ্য মিলেছে।

ভারতের অসহযোগিতা ও কূটনৈতিক সংকট: গত ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) হাদি হত্যাকাণ্ডের সহযোগী বাপ্পী ও বিপ্লবসহ পাঁচজনকে আটক করলেও তাঁদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার খুনিদের অবস্থান নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। উল্টো দাবি করা হচ্ছে, খুনিরা তাদের ভূখণ্ডে নেই। অথচ কলকাতায় আটক হওয়া ওই পাঁচজনই ছিল মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে হত্যার নেপথ্যের মূল ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ পরিচয় স্পষ্ট হতো।

জনমনে ক্ষোভ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #JusticeForHadi হ্যাশট্যাগটি এখনো ট্রেন্ডিং। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কি বাংলাদেশের খুনিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে? অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক মনে করেন, চিহ্নিত খুনিরা যদি বিদেশের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় পায়, তবে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করবে। বর্তমানে তদন্তকারীরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি না করলে চিহ্নিত ঘাতক ফয়সালকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।