ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে: কাতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা কেবল দেশ দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং এর প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এমন উদ্বেগ প্রকাশ করল কাতার। এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি বলেন, কাতার বর্তমানে যেকোনো মূল্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং পরবর্তীতে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলার পর দোহাই মধ্যস্থতা করে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিল।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক বিক্ষোভ বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।

ওয়াশিংটনের এমন হুঁশিয়ারির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী ও তাদের নৌপরিবহনকে ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইরানে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে: কাতার

আপডেট সময় : ০৮:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা কেবল দেশ দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং এর প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এমন উদ্বেগ প্রকাশ করল কাতার। এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আল-আনসারি বলেন, কাতার বর্তমানে যেকোনো মূল্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং পরবর্তীতে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলার পর দোহাই মধ্যস্থতা করে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছিল।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক বিক্ষোভ বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।

ওয়াশিংটনের এমন হুঁশিয়ারির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী ও তাদের নৌপরিবহনকে ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইরানে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।