সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ পাভেল ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল এবং চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তোতলা পাভেল চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন—ইন্টারপোলের এমন গোপন বার্তার ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় সাভার মডেল থানা পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পাভেলকে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা করতে দেখা গেছে। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি পাসপোর্টে নিজের নাম পরিবর্তন করে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ শেষে সর্বশেষ চীনে অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে জমি বিক্রি করে ভারত ও পর্তুগাল হয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা ছিল তার। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
পাভেলের অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি এলাকায় ব্যাপক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাভারের জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মার্কেট দখল, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাদাবাজি, অপহরণ এবং এক সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন অপরাধে চারবার গ্রেপ্তার হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি ছাড়া পেয়ে যান।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, তোতলা পাভেলের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ৫টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























