শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকি করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি রচিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই। জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন চালু করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিট ব্যবস্থার সূচনা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়। তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা খাত বাস্তবমুখীভাবে আরও সামনে এগিয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দফতরগুলোকে মিতব্যয়ী ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অফিসিয়াল কার্যক্রমে গাড়ি শেয়ারিং, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রায় রাখার মতো নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই অধিদফতরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্বগুলোর একটি হলো তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য একটি র্যাংকিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফলের ভিত্তিতে সূচক নির্ধারণ করা হবে।
সভায় কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী কর্মকর্তারা অতীতে কী কাজ করেছেন, বর্তমানে কী করছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন— এসব বিষয়ে তাদের মতামত লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে মন্ত্রী নিয়মিতভাবে অধিদফতর পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।
সভায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 




















