তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা তাদের শেষ সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। ইরানে চলমান অস্থিরতা ও সরকারের দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, “আমরা বর্তমানে ইরান সরকারের শেষ দিন ও সপ্তাহগুলো প্রত্যক্ষ করছি। যখন কোনো প্রশাসন কেবল সহিংসতার ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে, তখন বুঝতে হবে সেই সরকারের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। দেশটির সাধারণ জনগণ এখন বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠেছে।”
এদিকে ইরানে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর চড়াও হওয়া এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ নিজ নিজ দেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের সহিংস আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। একইভাবে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তেহরানের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার মূলত আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ ও দমন-পীড়ন বহির্বিশ্বের কাছ থেকে আড়াল করতেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে ডিসেম্বর থেকে ইরানে এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন ঘটলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসেন। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে রাজনৈতিক রূপ নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রগুলো বলছে, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে দেশটির সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তেহরানের বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























