ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল: সরকারি স্বীকৃতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীর পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলমান এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে এটিই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ মৃত্যুর পরিসংখ্যান।

সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য মূলত উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তার দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর কারণেই সাধারণ প্রতিবাদকারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় কিংবা ঘটনার বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এই পরিস্থিতি অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ এই সংকট ইরান সরকারকে বেশ চাপে ফেলেছে।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির নীতিনির্ধারকরা এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে জনগণের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছেন। অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি মদতপুষ্ট কিছু অশুভ শক্তি সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা কয়েক শ মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সীমিত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রাতভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলেও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

ইরানে চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল: সরকারি স্বীকৃতি

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীর পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলমান এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে এটিই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ মৃত্যুর পরিসংখ্যান।

সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য মূলত উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তার দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর কারণেই সাধারণ প্রতিবাদকারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় কিংবা ঘটনার বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এই পরিস্থিতি অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ এই সংকট ইরান সরকারকে বেশ চাপে ফেলেছে।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির নীতিনির্ধারকরা এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে জনগণের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছেন। অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদেশি মদতপুষ্ট কিছু অশুভ শক্তি সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা কয়েক শ মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সীমিত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রাতভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলেও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।