ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

পৌষ সংক্রান্তি ঘিরে শ্রীমঙ্গলে মাছের মেলা: বড় মাছের টানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও শহরের নতুন বাজারে হরেক রকমের দেশি-বিদেশি বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। উৎসবের আমেজে ঘেরা এই মেলায় বিশাল আকৃতির সব মাছ দেখতে এবং কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ।

গত রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই মেলা মঙ্গলবারও ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতল, মৃগেল, চিতল, বাঘইর, বোয়াল, আইড় ও কালবাউশসহ নানা প্রজাতির মাছের বিশাল সমারোহ। এছাড়া গ্রাস কার্প, কমন কার্প, পাবদা ও শোল-গজারের মতো মাছগুলোও নজর কাড়ছে সবার। সাধারণ সময়ে বাজারে সচরাচর দেখা যায় না এমন সব প্রকাণ্ড মাছের উপস্থিতি মেলাটিকে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে।

মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, পৌষ সংক্রান্তির এই সময়টিতে বড় মাছ কেনা এ অঞ্চলের একটি প্রাচীন রীতি। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বাজারে বড় মাছের সরবরাহ কিছুটা কম বলে মনে করছেন অনেকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। ক্রেতাদের মতে, দাম কিছুটা চড়া হলেও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে বড় মাছ কেনার এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চান না।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। এটি কেবল একটি বাজার নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষই এই মেলায় অংশ নেন এবং নিজেদের পছন্দমতো মাছ সংগ্রহ করেন। তবে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় এবার বড় মাছের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর এবং মনু ও কুশিয়ারা নদীর মতো মৎস্যভাণ্ডারগুলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। একসময় পৌষ সংক্রান্তিতে বড় মাছ কিনে মেয়ের বাড়িতে পাঠানোর যে সামাজিক প্রথা ছিল, তা আজও এই মেলার মাধ্যমে টিকে আছে। সময়ের বিবর্তনে অনেক প্রথা ম্লান হয়ে গেলেও মাছ কেনা ও দেখার এই উৎসবের আবেদন এখনো আগের মতোই অটুট রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করেন’

পৌষ সংক্রান্তি ঘিরে শ্রীমঙ্গলে মাছের মেলা: বড় মাছের টানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও শহরের নতুন বাজারে হরেক রকমের দেশি-বিদেশি বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। উৎসবের আমেজে ঘেরা এই মেলায় বিশাল আকৃতির সব মাছ দেখতে এবং কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ।

গত রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই মেলা মঙ্গলবারও ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, রুই, কাতল, মৃগেল, চিতল, বাঘইর, বোয়াল, আইড় ও কালবাউশসহ নানা প্রজাতির মাছের বিশাল সমারোহ। এছাড়া গ্রাস কার্প, কমন কার্প, পাবদা ও শোল-গজারের মতো মাছগুলোও নজর কাড়ছে সবার। সাধারণ সময়ে বাজারে সচরাচর দেখা যায় না এমন সব প্রকাণ্ড মাছের উপস্থিতি মেলাটিকে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে।

মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, পৌষ সংক্রান্তির এই সময়টিতে বড় মাছ কেনা এ অঞ্চলের একটি প্রাচীন রীতি। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বাজারে বড় মাছের সরবরাহ কিছুটা কম বলে মনে করছেন অনেকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। ক্রেতাদের মতে, দাম কিছুটা চড়া হলেও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে বড় মাছ কেনার এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চান না।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। এটি কেবল একটি বাজার নয়, বরং এই অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষই এই মেলায় অংশ নেন এবং নিজেদের পছন্দমতো মাছ সংগ্রহ করেন। তবে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় এবার বড় মাছের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর এবং মনু ও কুশিয়ারা নদীর মতো মৎস্যভাণ্ডারগুলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। একসময় পৌষ সংক্রান্তিতে বড় মাছ কিনে মেয়ের বাড়িতে পাঠানোর যে সামাজিক প্রথা ছিল, তা আজও এই মেলার মাধ্যমে টিকে আছে। সময়ের বিবর্তনে অনেক প্রথা ম্লান হয়ে গেলেও মাছ কেনা ও দেখার এই উৎসবের আবেদন এখনো আগের মতোই অটুট রয়েছে।