উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর নামে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল সোমবার মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাজৈর থানার দক্ষিণ খালিয়া গ্রামের গুরুদাস বারই (৪৫) এবং দামেরচর বাজার এলাকার মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি ভুক্তভোগীদের বৈধভাবে ইউরোপ পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। চক্রের সদস্যরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণদের সংগ্রহ করে প্রথমে লিবিয়ায় পাঠাত। সেখান থেকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি ছোট ডিঙি নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে বিপজ্জনকভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিউনিশিয়া উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে নৌকাটি ডুবে যায় এবং এতে আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)। নৌকাডুবির পর তিউনিশিয়ার গ্যাবেস ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল ও জারবা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তাদের মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো বাংলাদেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং রাজৈর থেকে এই দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের মূল হোতা এবং নেপথ্যে থাকা অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থের লেনদেন ও আন্তর্জাতিক এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্কটি উপড়ে ফেলতে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রিপোর্টারের নাম 

























