ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্য: ‘যোগ্য লোক আছে, তবে সরকার চায় না’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি একজন দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক এবং গণহত্যার দোসর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ‘গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করিয়ে কোনো বাহাদুরি নেই, এটি সরকারের দেউলিয়াত্ব।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে এবং বিএনপিতে এই পদের জন্য যোগ্য ও আস্থাভাজন লোক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

রাষ্ট্রপতির ‘কুর্কীতি’ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা বাতিল করতে তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে—এটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংককে এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার কারিগর ছিলেন। এস আলম দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা এবং ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কেও তিনি অবগত আছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে নাহিদ ইসলাম ব্যাখ্যা দেন যে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা সে সময় সরকারে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখনকার সময় আর বর্তমান সময় এক নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল: জাতীয় সরকার গঠন অথবা ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের উল্লাস: অনুষ্ঠিত হলো ফ্লোরিডা স্টেট ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্য: ‘যোগ্য লোক আছে, তবে সরকার চায় না’

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি একজন দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক এবং গণহত্যার দোসর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ‘গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করিয়ে কোনো বাহাদুরি নেই, এটি সরকারের দেউলিয়াত্ব।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে এবং বিএনপিতে এই পদের জন্য যোগ্য ও আস্থাভাজন লোক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

রাষ্ট্রপতির ‘কুর্কীতি’ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া এবং ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা বাতিল করতে তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে—এটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংককে এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার কারিগর ছিলেন। এস আলম দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা এবং ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কেও তিনি অবগত আছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে নাহিদ ইসলাম ব্যাখ্যা দেন যে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা সে সময় সরকারে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখনকার সময় আর বর্তমান সময় এক নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল: জাতীয় সরকার গঠন অথবা ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।