কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সো মো-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় বিনা উস্কানিতে এ ধরনের গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দুই প্রতিবেশী দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ঘটনা বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মিয়ানমারকে পূর্ণ দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে না পড়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা যাতে কোনোভাবে হুমকির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের একান্ত দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে আসা গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি শিশু গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আলোচনার সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আহত শিশু ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সীমান্তে অস্থিরতা রোধে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তার সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























