দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন সাজ সাজ রব। দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ার পুনর্জাগরণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা দলবেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রঙ ও নকশার লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি তারা শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট জটলায় অংশ নিচ্ছেন। প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন এবং নির্বাচিত হলে সেসব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন। প্রচারণার এই ডামাডোলে পুরো ক্যাম্পাস এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত আনন্দের। তাদের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত ছাত্র সংসদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বজায় থাকবে এবং দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি হবে।
কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি হল সংসদগুলোর প্রার্থীরাও সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট হলের সঙ্গে যুক্ত সকল শিক্ষার্থীই হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ফলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীরা তাদের বাসাবাড়ি ও মেসগুলোতেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এবারের নির্বাচনে মূলত তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’, শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’। এর বাইরে বিভিন্ন পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও লড়াইয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। আশা করি, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং জয়-পরাজয় ছাপিয়ে দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন দলীয় লেজুড়বৃত্তির বাইরে স্বতন্ত্র ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের প্যানেলের প্রতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আস্থা ও সমর্থন লক্ষ্য করছি। আমরা জয়ী হলে শিক্ষার্থীদের সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাব।
‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম তার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে আমি সামনের সারিতে ছিলাম এবং শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে প্রশাসনের সঙ্গে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে বলে আমার বিশ্বাস।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, শাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৭ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় সংসদে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। নির্ধারিত ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদ ছাড়া সাধারণ পদগুলোতে মাত্র তিনজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর শাবিপ্রবিতে এই নির্বাচন আয়োজনকে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি ফিরিয়ে আনার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। আগামী ২০ জানুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব খুঁজে নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
রিপোর্টারের নাম 

























