ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

টাইটেল: অবৈধ সিগারেটের রমরমা কারবার: বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

দেশের আনাচে-কানাচে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে ফেরিওয়ালার হাত হয়ে এই নিষিদ্ধ পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে। এমনকি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনলাইনেও অবৈধ সিগারেট ও ই-সিগারেট বিক্রির রমরমা বাজার গড়ে উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দাবি, এই অবৈধ তামাক বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, যদিও বাস্তবে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে এই অবৈধ ব্যবসা এখন আর কেবল সাধারণ চোরাচালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পেছনে শক্তিশালী অপরাধী চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ সিগারেট বিক্রি বন্ধের লক্ষ্যে ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটের লিংক ও ফোন নম্বর বন্ধ করতে বিটিআরসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল এনবিআর। তবে বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের কেবল আপত্তিকর কনটেন্ট মডারেশন বা ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষমতা রয়েছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের পরিচয় শনাক্ত করে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি নিষিদ্ধ সাইটের তালিকা দেয়, তবেই তারা তা ব্লক করতে পারে। তবে ভিপিএন প্রযুক্তির কারণে ওয়েবসাইট পুরোপুরি বন্ধ করা কারিগরিভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে অবৈধ তামাকের বাজার প্রায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি মাসে বাজারে প্রায় ৮৩২ মিলিয়ন শলাকা অবৈধ সিগারেট সরবরাহ করা হচ্ছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এসব বিদেশি সিগারেট প্রায় ৬০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। বৈধ সিগারেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা সস্তা ও সহজলভ্য এই অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় কমছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০ বছরের ব্যবধানে এই খাতে রাজস্ব আদায় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাড়লেও অবৈধ বাজারের বিস্তারে সরকারের প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা বিদেশি সিগারেটের এই ‘গোপন চ্যানেল’ বন্ধ করতে না পারলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা—উভয়ই ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল ওয়েবসাইট বন্ধ নয়, বরং সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযানই পারে এই বিশাল রাজস্ব ক্ষতি রোধ করতে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

টাইটেল: অবৈধ সিগারেটের রমরমা কারবার: বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আনাচে-কানাচে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পাড়ার টং দোকান থেকে শুরু করে ফেরিওয়ালার হাত হয়ে এই নিষিদ্ধ পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে। এমনকি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অনলাইনেও অবৈধ সিগারেট ও ই-সিগারেট বিক্রির রমরমা বাজার গড়ে উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের দাবি, এই অবৈধ তামাক বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে, যদিও বাস্তবে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে এই অবৈধ ব্যবসা এখন আর কেবল সাধারণ চোরাচালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পেছনে শক্তিশালী অপরাধী চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ সিগারেট বিক্রি বন্ধের লক্ষ্যে ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটের লিংক ও ফোন নম্বর বন্ধ করতে বিটিআরসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল এনবিআর। তবে বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের কেবল আপত্তিকর কনটেন্ট মডারেশন বা ওয়েবসাইট ব্লক করার ক্ষমতা রয়েছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের পরিচয় শনাক্ত করে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি নিষিদ্ধ সাইটের তালিকা দেয়, তবেই তারা তা ব্লক করতে পারে। তবে ভিপিএন প্রযুক্তির কারণে ওয়েবসাইট পুরোপুরি বন্ধ করা কারিগরিভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে অবৈধ তামাকের বাজার প্রায় ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি মাসে বাজারে প্রায় ৮৩২ মিলিয়ন শলাকা অবৈধ সিগারেট সরবরাহ করা হচ্ছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এসব বিদেশি সিগারেট প্রায় ৬০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। বৈধ সিগারেটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা সস্তা ও সহজলভ্য এই অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় কমছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৪০ হাজার ৪১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০ বছরের ব্যবধানে এই খাতে রাজস্ব আদায় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাড়লেও অবৈধ বাজারের বিস্তারে সরকারের প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা বিদেশি সিগারেটের এই ‘গোপন চ্যানেল’ বন্ধ করতে না পারলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা—উভয়ই ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল ওয়েবসাইট বন্ধ নয়, বরং সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযানই পারে এই বিশাল রাজস্ব ক্ষতি রোধ করতে।