বর্তমানে ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা দেশটির দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এক সময়ের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত এখন উগ্র জাতীয়তাবাদের এক কঠিন সময় পার করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মকে যেভাবে জনমত গঠনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নজিরবিহীন। উগ্রবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রকাশ্য হুমকি এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতাকে প্রতিনিয়ত বিনষ্ট করছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে গণপিটুনি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং উপাসনালয়ে হামলার মতো ঘটনা এখন নিয়মিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। এই ধরনের সহিংসতা কেবল আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও বিভাজন তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষক মহল ভারতের এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষেত্রবিশেষে পরোক্ষ সমর্থন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন এবং বিভিন্ন রাজ্যে প্রবর্তিত ধর্মান্তর বিরোধী আইনগুলোকে নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা কেবল দেশটির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্প্রীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং বহুত্ববাদের যে ঐতিহ্যের জন্য ভারত বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল, তা আজ উগ্র সাম্প্রদায়িকতার কবলে পড়ে ম্লান হতে বসেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির এই রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অখণ্ডতা, সামাজিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই উগ্রবাদের রেশ ভারতকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























