ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর চলা সহিংস দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর বিমান হামলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরান যদি আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ না করে, তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি বেছে নিতে পারে ওয়াশিংটন।
সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, ইরানের রাজপথে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময়ই কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন, তবে বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের পথটিও খোলা রাখা হয়েছে। লেভিটের মতে, ট্রাম্পের নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে সব ধরনের বিকল্প হাতে রাখা।
এদিকে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি গোপন যোগাযোগ মাধ্যম সচল রয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও নেপথ্যে ভিন্ন সুরে কথা বলছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই বার্তাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তেহরান ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্যারোলিন লেভিটও এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের রাজপথে রক্তপাত দেখতে চান না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























