ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সুদানে সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিঞ্জায় এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় সুদানের একটি সেনাঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সোমবারের এই হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় নিহতদের মধ্যে দেশটির সেন্নার রাজ্যের গভর্নরের বডিগার্ড ও প্রোটোকল-প্রধানও রয়েছেন। তবে, সৌভাগ্যবশত গভর্নর নিজে এই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং সেনা কর্মকর্তাদের তথ্যানুসারে, হামলাটি দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। আরএসএফ সিঞ্জার ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ওই সেনাঘাঁটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, যেখানে পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সেনা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ এবং বিমান বিধ্বংসী কামানের গোলাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গেছে। এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সুদানের সেনা-সমর্থিত সরকার তিন বছর পর পোর্ট সুদান থেকে খার্তুমে যুদ্ধকালীন সামরিক ঘাঁটি ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সেন্নার রাজ্যে পুনর্বাসনের এক বছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিজ নিজ বসতিতে ফিরে এলেও, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে অন্যান্য অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

সুদানে সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিঞ্জায় এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় সুদানের একটি সেনাঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সোমবারের এই হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় নিহতদের মধ্যে দেশটির সেন্নার রাজ্যের গভর্নরের বডিগার্ড ও প্রোটোকল-প্রধানও রয়েছেন। তবে, সৌভাগ্যবশত গভর্নর নিজে এই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং সেনা কর্মকর্তাদের তথ্যানুসারে, হামলাটি দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। আরএসএফ সিঞ্জার ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ওই সেনাঘাঁটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, যেখানে পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সেনা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ এবং বিমান বিধ্বংসী কামানের গোলাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গেছে। এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সুদানের সেনা-সমর্থিত সরকার তিন বছর পর পোর্ট সুদান থেকে খার্তুমে যুদ্ধকালীন সামরিক ঘাঁটি ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ১১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে অথবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সেন্নার রাজ্যে পুনর্বাসনের এক বছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিজ নিজ বসতিতে ফিরে এলেও, জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে অন্যান্য অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ।